প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের নির্বাচনে একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকার পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা অনুভব করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি ডানপন্থী সরকার গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে, নেতানিয়াহু বলেছেন যে, ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা উচিত নয় এবং এটি লজ্জাজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পশ্চিম জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিক ফল প্রকাশের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু জানান, নির্বাচনের প্রকৃত ফল জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসবে।
ভোট গণনার অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে। তবে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে লিকুদ পার্টি এককভাবে প্রায় ২৭টি আসন পেতে পারে বলে দেশটির ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেতে পারে।
বক্তব্যে নেতানিয়াহু ২০২২ সালে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার সরকারের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ, রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে নির্মূল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। ইরানের হুমকি মোকাবিলা করে দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল এবং ইসরায়েল আরও শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।
সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিনকাসের মতে, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠনের জন্য এমন জোট করতে হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর। তবে বিরোধী শিবিরের ভোটাররা নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সমঝোতা মেনে নিতে চাইবেন না বলে তিনি মনে করেন।
আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজের দলের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাব দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তার মতে, সরকার গঠনের মতো জোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে আনছেন নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষক ড্যান পেরির মতে, বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর পরিস্থিতিকে নিজের পক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
ফলে, লিকুদ একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও, নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা জোটের সমীকরণ ও অন্যান্য দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন