০৭:৩৪ পি.এম
এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও ভাতা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন শিক্ষানবিস চিকিৎসকেরা।
সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার সময় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি এবং মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই টানা কর্মবিরতি চলতে থাকবে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ রাখতে হবে, উপজেলা পর্যায়ে দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান করতে হবে এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় বিএনপি'র পথসভা, অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিবাদে আহ্বান
চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবি রয়েছে- এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন করতে হবে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করতে হবে, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করতে হবে এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নতুন রোগী ভর্তি, নিয়মিত রাউন্ড (পর্যবেক্ষণ), রোগীর ছাড়পত্র এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলোতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, 'ইন্টার্ন ডাক্তাররা না থাকায় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সিনিয়র ডাক্তাররা থাকলেও তাঁদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।'
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের তৈরি হওয়া সংকটের কথা স্বীকার করেছেন রামেক কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: প্রবাসীরা গ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে চান: ব্রিটিশ কাউন্সিলর আব্দুল মালিক
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, 'ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের ওপর কিছুটা অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিড-লেভেল (মধ্যম সারির) চিকিৎসকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন