প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল দিয়েছে। এই চালের সঙ্গে ১৫০ মেট্রিক টন ফর্টিফাইড রাইস কার্নেলও দেওয়া হয়েছে, যা পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সাগরিকা গুদামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (এমএএফআরএ) মাধ্যমে এই চাল কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীতে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।
২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ২০ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চাল রোহিঙ্গা সহায়তায় প্রদান করেছিল।
সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম শফিকুল হায়দার বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে পাশে রয়েছে।"
এই চালের হস্তান্তর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারির একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন উল্লেখ করেন, "চাল ও ফর্টিফাইড রাইস কার্নেলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সিউলের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "এই সহায়তা শুধু খাদ্যসংকটই মেটাবে না, বরং পুষ্টির অবস্থার সার্বিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে।"
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা তহবিল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, "বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে, অথচ এই খাতে তহবিলের পরিমাণ দিন দিন কমছে।"
এই কঠিন সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই চাল প্রদান রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে।
সংস্থাটি জানায়, সাধারণ চালের সঙ্গে ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল মিশিয়ে বিতরণ করা হবে, যা শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাবে।
এছাড়া, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ এখনো তৈরি না হওয়ায়, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তার ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউএফপি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন