প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে এক হুলুস্থুল কাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ। পরীক্ষার জন্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করায় দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে স্থগিত রয়েছে। এর ফলে, প্রথম বর্ষের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আট মাস পেরিয়ে গেলেও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায়, বিভাগীয় প্রধানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের অভিযোগ হল, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পরীক্ষার কমিটির সদস্য পদ থেকে বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ পদত্যাগ করার পর পরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এই বিষয়ে তারা একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সমাধানের পরিবর্তে অসহযোগিতামূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের বিপরীত আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, সাত থেকে আটবার বিভাগীয় প্রধানের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. আতিজা দীল আফরোজ প্রায় ১৮ মাস বিলম্বে ফল প্রকাশ করেছেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়েছেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানকে চলমান সংকট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা, বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থ সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং তদন্ত চলমান রেখেই দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান। ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শায়খ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে। কিন্তু তিন মাস ধরে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক সেশনজটের মুখে পড়েছি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নয়। অথচ আমরা সহযোগিতার পরিবর্তে বারবার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছি। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রশাসনিক অবহেলা বা ব্যক্তিগত জটিলতার দায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন নেবে? এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ মন্তব্য করেছেন, একটি রেকর্ডিংয়ে শুনতে পাই যে মডারেশন করা প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কমিটির সভাপতির ব্যাগে ছিল, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই কমিটিতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তাই আমি পদত্যাগ করি। পরবর্তীতে বিভাগের অন্য দুই শিক্ষকও একই কারণে কমিটিতে দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এ কারণে, পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তবে আমি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে ডিন ও উপাচার্যকে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আমাকে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে এক শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথা বলে ও অপমানকর আচরণ করে। তখন আমিও কিছুটা কঠোর আচরণ করেছি। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন তদন্ত চলমান কিনা সে বিষয়ে তিনি জানান, বিভাগের বার্ষিক ভ্রমণে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। তখন সেই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসে, তখন সেই একই কমিটি বিষয়টি দেখছে। এদিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রদিতি রাউত প্রমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি দেওয়ার সাথেও তিনি সম্পৃক্ত নন বলে জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন