প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ তেল সম্পদের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছে। চলতি বছরের শুরুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, মার্কিন প্রশাসন ও দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতি সচল রাখা এবং জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা। তবে মার্কিন সরকারের দাবি অনুযায়ী, বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমবে কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সমর্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স’ (NABEP)-এর সঙ্গে একটি যৌথ ভেঞ্চার গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে, যা দেশটির মোট খনিজ তেল সম্পদের পাঁচভাগের একভাগেরও বেশি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বনাম বাজারের বাস্তব চিত্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক নেতৃত্বের দাবি, এই চুক্তি আমেরিকার তেলের রিজার্ভ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। কিন্তু বিশ্ব বাজারের তেল সূচক অন্য গল্প বলছে।
বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। বর্তমানে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট (Brent) ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
কেন কমছে না জ্বালানির দাম?
১. হরমুজ প্রণালী সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে রণকৌশলগত প্রণালী ‘হরমুজ’ বন্ধ হয়ে আছে। বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল সরবরাহকারী এই পথ স্তব্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে (দৈনিক ১০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি), ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা অসম্ভব।
২. ভেনেজুয়েলার ভারী ও অম্লীয় তেল: ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেল মূলত ‘হেভি ও সার’ (Heavy and Sour) স্বাদের ক্রুড। এটি উত্তোলন এবং শোধন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। মার্কিন গল্ফ কোস্টের রিফাইনারিগুলো এই তেল ব্যবহারে সক্ষম হলেও বর্তমানে তাদের সক্ষমতা শতভাগ পূর্ণ। ফলে চাইলেই দ্রুত শোধন বাড়িয়ে পাম্পে জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব নয়।
৩. জীর্ণ অবকাঠামো: দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভেনেজুয়েলার পাইপলাইন, বিদ্যুৎ গ্রিড ও তেল অবকাঠামোগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখজনক হারে বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও শত শত কোটি ডলার নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন, যার জন্য কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
মুনাফা কার ঘরে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে হয়তো বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে, তবে স্বল্পমেয়াদে সাধারণ ভোক্তা এই চুক্তির সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রকৃতপক্ষে এই সমঝোতার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে মার্কিন জায়ান্ট এনার্জি কোম্পানিগুলো (যেমন: শেভরন)। এর ফলে তাদের শেয়ার সূচক ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ উভয়ই নতুন গতি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন