প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানি এবং ইতালির দুটি উগ্র ডানপন্থী দল একত্রিত হয়ে ইউরোপে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। সম্প্রতি ইতালির ওরভিয়েতো শহরে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে উভয় দলের শীর্ষ নেতারা ইউরোপের জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রায় ৯০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ও ফ্যাসিস্ট ইতালি যেভাবে জোট গঠন করেছিল, বর্তমানের এই রাজনৈতিক সম্পর্ক সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি-র জ্যেষ্ঠ নেতা মার্ক ইয়োংগেন এবং ইতালির ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চি। সম্প্রতি জার্মানির একটি রাজ্যে এএফডি দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
১৯৩৬ সালে ইতালির তৎকালীন শাসক বেনিতো মুসোলিনি জার্মানির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসে ‘রোম-বার্লিন অক্ষ’ নামে পরিচিত। তিন বছর পর, দুই দেশ সামরিক ও রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
বর্তমানের দলগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে রাজনীতি করলেও, তাদের এই নতুন মিত্রতা ১৯৩০-এর দশকের পুরনো ইতিহাসকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
সমাবেশের মূল কথা
ওরভিয়েতোর সমাবেশে ভান্নাচ্চি তার জার্মান সহযোগী মার্ক ইয়োংগেনের প্রশংসা করে বলেন, "তাকে নিয়ে মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই, কারণ তিনি কোনো উগ্রপন্থী নন বরং একজন শ্রদ্ধেয় দর্শন অধ্যাপক।" অন্যদিকে, ইয়োংগেন মন্তব্য করেন যে জার্মানি এবং ইতালির ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নিজেদের আলাদা সত্তা ও পরিচয় বজায় রেখে একসঙ্গে চলা উচিত। তারা নিজেদেরকে ‘সহোদর দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান
এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল অভিবাসন। দুই নেতা বর্তমানের উদার অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। জার্মান নেতা ইয়োংগেন ২০১৫ সালের শরণার্থী নীতির সমালোচনা করে একে ‘বড় ধরনের চাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অভিবাসন সমস্যা ইতালির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানিতে বর্তমান চ্যান্সেলরের দল যখন একের পর এক নির্বাচনে হোঁচট খাচ্ছে এবং উগ্র ডানপন্থী এএফডি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময়ে এই দুই দেশের উগ্রপন্থী দলগুলোর হাত মেলানো ইউরোপের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় আনতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন