প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউড অভিনেতা আমির খান দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে কাজের জন্য ছুটতে গিয়ে তিনি জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকতে পারেননি। তিন দশকের ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে এই আক্ষেপের কথা জানালেন তিনি। কথার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেও ফেলেন আমির।
বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমির নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। এ আয়োজনে তাকে ‘স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ারের দুর্বল মুহূর্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কাজের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে পরিবারকে সময় দিতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন।
আমির জানান, করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তখনই উপলব্ধি করেন, কাজ করতে গিয়ে জীবনের অনেকটা সময় তিনি পার করে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, ‘এক বছর, দুই বছর কিংবা পাঁচ বছর কোনো কাজে পাগলের মতো ডুবে থাকা যায়। কিন্তু এভাবে যদি ৩০ বছর কেটে যায়, তাহলে সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায়। আপনার সন্তানেরা বড় হয়ে যায়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। তখন আমার মনে হয়েছে, আমি জীবনের অনেক কিছু হারিয়েছি।’
কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারছিলেন না আমির। একপর্যায়ে তিনি চোখের পানি মুছে উপস্থিত দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।
এই উপলব্ধির পর তিনি জীবনের অগ্রাধিকারে পরিবর্তন এনেছেন বলে জানান। গত চার বছর ধরে তিনি পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য বেশি সময় রাখার চেষ্টা করছেন।
আমির বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ যে ৫৬ বছর বয়সে এই উপলব্ধি হয়েছে, ৮৬ বছর বয়সে নয়। তখন হয়তো কিছু করার জন্য সত্যিই অনেক দেরি হয়ে যেত।’
অনুষ্ঠানে আমির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেন। ১৯৮৮ সালে কেয়ামাত সে কেয়ামত তাক সিনেমার সাফল্যের পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে নয়টি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। পরে বুঝতে পারেন, একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমার দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছেন। এর মধ্যে একের পর এক সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে শুরু করে।
আমির জানান, তখন বাড়ি ফিরে কাঁদতেন এবং তৎকালীন স্ত্রী রিনা দত্তের সঙ্গে নিজের কষ্টের কথা ভাগ করে নিতেন। পরপর সিনেমা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ‘ওয়ান-ফিল্ম ওয়ান্ডার’ বা একটি সিনেমার সাফল্যে পরিচিত পাওয়া অভিনেতা বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমির বলেন, ‘মানসিক ও আবেগের দিক থেকে মনে হতো, আমি যেন চোরাবালিতে আটকে গেছি। বেরিয়ে আসার জন্য যত চেষ্টা করতাম, ততই আরো গভীরে ডুবে যাচ্ছিলাম।’
এদিকে বহুল আলোচিত থ্রি ইডিয়টস সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়েও কথা বলেছেন আমির। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া রাজকুমার হিরানি পরিচালিত সিনেমাটিতে আমিরের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আর মাধবান, শারমান জোশি ও কারিনা কাপুর খান।
আমির জানান, সিনেমাটির চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার দেশে ফেরার পর চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত সংস্করণ শোনার আশা করছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, ‘এতটুকু বলতে পারি, হ্যাঁ, রাজু চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি ফিরে এলে সে আমাকে চূড়ান্ত চিত্রনাট্য শোনাবে। এখন শুধু ভালো কিছুর আশায় আছি।’
সিঙ্গাপুর চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মাননা
সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন আমির খান। হংকংভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা পিটার চ্যান হো-সান তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
পুরস্কার পেয়ে আমির বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি সম্মিলিত শিল্পমাধ্যম, যেখানে অনেক মানুষ একে অন্যের কাজে অবদান রাখেন। পিটার চ্যানের হাত থেকে সম্মাননা পাওয়ায় এটি তার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২০১৭ সালে সিক্রেট সুপারস্টার সিনেমা নিয়ে এ উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন আমির। এবারের উৎসবে তার প্রযোজিত ও অভিনীত ২০০১ সালের সিনেমা লাগান-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে কাজের জন্য করা ত্যাগের কথাও এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন আমির। তার বক্তব্যে উঠে আসে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে সময় দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করে কীভাবে নিজের অগ্রাধিকার বদলেছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন