সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ এম
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের সরকারি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ‘বিএনপি গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সংস্কারের পরিবর্তে সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান ও ১১-দলীয় ঐক্যের বক্তব্য তুলে ধরার লক্ষ্যে’। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগ ১১-দলীয় ঐক্য প্রত্যাখ্যান করেছে, যা গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। গতকাল জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল অংশ নেয়নি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১-দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়Ñএই তিনটির প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) দু’টি শপথ নেয়ার কথা। এর একটি এমপি হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। তবে নির্বাচনের পর বিরোধী দলের এমপিরা দু’টি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা শুধু সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েছেন। এখানে বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের মূল প্রশ্ন চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি মন্তব্য করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত ক্ষমতা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে জনগণের গণভোটে অর্পিত গাঠনিক ক্ষমতা এক নয়। একই ব্যক্তি দু’টি প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে পারেন, তবে প্রতিষ্ঠান দু’টির ক্ষমতার উৎস, আইনগত পরিচয় ও দায়িত্ব ভিন্ন। জাতীয় সংসদ সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, গণরায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টিকে সীমিত পরিসরে সাধারণ সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে, তাকে পাশ কাটিয়ে কোনো বিকল্প প্রক্রিয়াকে জনগণের ম্যান্ডেটের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও তা সীমাহীন নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সাধারণ সংশোধনী ক্ষমতার মাধ্যমে করা যায় না। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা গেলেও জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিভিন্ন সংশোধনী বাতিল হওয়ার দৃষ্টান্ত টানেন। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সংশোধনী আনা হয়েছে কি না, সেটি মৌলিক প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, যে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেই ক্ষমতার উৎস কী, আর জনগণ কোন প্রক্রিয়ায় সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে।
১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। এগুলো হলোÑ গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদ কার্যকর করা।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারকে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনকভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য প্রদান করেনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানান, ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ নিয়ে দলটির কোনো বক্তব্য দেওয়ার কিছু নেই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল বর্তমানে জামায়াতের সদস্য নন এবং ব্যক্তিগত অপরাধ বা এই মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয় দলটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী শেরেবাংলা নগরে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত একটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রেফতার দুজনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কক্ষটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের। পরবর্তীতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বলে দাবি করেন।
এ ঘটনার পর সংসদ সদস্য তার ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে এক পোস্ট দেন। সেখানে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কর্পোরেট জীবনের প্রচণ্ড চাপ আর মানসিক অবসাদ কাটাতে আইনজীবী পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সি এক নারী। লিজ ইস্ট নামের ওই নারী এখন পেশাদার কুকুর হাঁটনো বা ‘ডগ ওয়াকার’ হিসেবে কাজ করছেন। আর এতে তিনি আগের চেয়ে অনেক কম কাজ করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।
পিপল ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে চার বছর ধরে ফৌজদারি মামলা ও অপরাধ দমন সংক্রান্ত আইনি সেবায় (ক্রিমিনাল ডিফেন্স) যুক্ত ছিলেন লিজ। প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে আদালতে যাওয়া, এমনকি কারাগারে গিয়ে মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলা—সবকিছুই করতে হতো তাকে। তবে এই কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ তার মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছিল।
লিজ জানান, দীর্ঘ সময় কাজ এবং লন্ডনের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে তার জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। মাঝেমধ্যে রাত ৯টা বা ১০টা বেজে যেত বাসায় ফিরতে। তার মনে হয়েছিল, এই জীবন পরিবার গঠনের জন্য একেবারেই টেকসই নয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি একসময় পুরোপুরি মানসিক অবসাদের (বার্নআউট) শিকার হওয়ার ভয় পেয়েছিলেন।
এরই মধ্যে তার স্বামীর ডগ ওয়াকিং ও ডগ বোর্ডিংয়ের ব্যবসা দেখে তার মনে অনুপ্রেরণা জাগে। তিনি ভাবলেন, স্বামী যদি নিজের কাজ এত ভালোবেসে করতে পারেন, তবে তিনি কেন ছুটির দিনেও কাজের ভয়ে মন খারাপ করে থাকবেন?
এরপরই তিনি বড় সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ব্যবসার কাস্টমার বা মক্কেল জোগাড় করার সময় খরচ চালানোর জন্য প্রথমে একটি স্থানীয় পাবে চাকরি নেন তিনি। এভাবে মাত্র এক বছরের মধ্যে তার নিয়মিত ব্যবসার পরিধি বেশ বড় হয়ে যায়।
বর্তমানে লিজ প্রতিদিন চারটি দলে ভাগ করে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কুকুর নিয়ে হাঁটেন। প্রতি কুকুরের জন্য ঘণ্টায় ১৪ পাউন্ড করে নিয়ে তার প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড আয় হয়।
অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেন, এত পড়াশোনা করে শেষ পর্যন্ত কুকুর হাঁটার কাজ বেছে নিলেন?
উত্তরে লিজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন এই পেশায় আয় কম। কিন্তু আমি কর্পোরেট চাকরির চেয়ে এখন অর্ধেক সময় কাজ করে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করছি। আইন পড়ার দিনগুলোকে আমি নষ্ট মনে করি না, কারণ সেখান থেকে শেখা অভিজ্ঞতা এখনো আমার নানা কাজে লাগে।’
তবে এই পেশায় আসার জন্য কেবল অর্থের পিছু ছুটলে চলবে না বলে সতর্ক করেছেন লিজ। তার মতে, কুকুর ও প্রকৃতির প্রতি যার নিঃশর্ত ভালোবাসা রয়েছে, কেবল তার জন্যই এই পেশাটি উপযুক্ত।
লিজ বলেন, ‘আমার ডিগ্রিটি সবসময় আমার সঙ্গেই থাকবে, চাইলে আমি যেকোনো সময় আইন পেশায় ফিরে যেতে পারব। যদিও মনে হয় না যে আমার আর কখনো সেখানে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, কারণ বর্তমান কাজটিকে আমি সত্যি ভীষণ ভালোবাসি।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক বয়কট করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এমনটি জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই সরকারকে সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংবিধান সংশোধনের জন্য। প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে চলমান সংকটের সমাধান না হয়ে তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের সংশোধন কীভাবে হবে, সেটি গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই সংবিধান সংশোধন পরিষদের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলো সংশোধনীর মাধ্যমে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেটি আরও ঘনীভূত হবে।
গণভোটের রায় সম্পর্কে এনসিপির এই নেতা বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে গণভোটের রায় অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অন্যথায় দেশের চলমান সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলেছি, সংবিধান সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করতে হবে। সরকার যদি সেই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সেখানে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা অংশ নেব না।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ