প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোববার ভোট প্রদান করবেন দেশটির নাগরিকরা। এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা চলছে।
এই নির্বাচন শুধুমাত্র ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির যে প্রবণতা জোরালো হয়েছে, ব্রাজিলও সেই পথে যাবে কি না—এমন একটি ইঙ্গিতও প্রদান করবে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আমাজন রেইনফরেস্টের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে দক্ষিণের কৃষিপ্রধান অঞ্চল এবং বিশাল শহরের বস্তিগুলো—সবখানে ভোটারদের সামনে পরিচিত দুই মুখ। অনেক ভোটার এমন একজনকে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যাকে তারা অন্যজনের তুলনায় কম অপছন্দ করেন।
৮০ বছর বয়সী প্রবীণ বামপন্থী নেতা লুলা চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে চান। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র। ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জনমত জরিপগুলো নির্দেশ করছে, রোববারের প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটে মুখোমুখি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ব্রাজিলের দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং নিম্নআয়ের ভোটারদের মধ্যে লুলার সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি। ক্যাথলিক ও নারী ভোটারদের মধ্যেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল, উচ্চআয়ের ভোটার এবং ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে বলসোনারোর সমর্থন বেশি।
ব্রাজিলে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ভোটারদের একটি বড় অংশের নেতিবাচক মনোভাব বিদ্যমান। তীব্র নির্বাচনী প্রচারে নীতি ও প্রতিশ্রুতির চেয়ে কেলেঙ্কারি এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়িই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
লুলা বলসোনারোকে ‘কেউই নয়’ বলে আক্রমণ করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন, তিনি ‘একটি ভবনের ব্যবস্থাপক হওয়ারও যোগ্য নন।’
অন্যদিকে, নিজের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য পরিচিত বাবার তুলনায় নিজেকে আরও ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি লুলাকে ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ব্রাজিল আর আপনাকে সহ্য করতে পারছে না।’
ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রাসিলিয়ার ৫২ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক জোয়েলিও কামার্গো বলেছেন, ‘আমি আগে লুলাকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু তিনি বয়স্ক হয়ে যাচ্ছেন এবং এবার আমি ভিন্ন কিছু চেয়েছিলাম। তবে বলসোনারোকেও ভোট দেব না। তাই আমি কিছুটা দ্বিধায় আছি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন