প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড দেবযানী করকে খুলনায় এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকিয়া সারওয়ার লিমা এই তথ্য জানিয়েছেন।
অংমাচিং মারমাকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই এলাকায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের অফিসও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কিছু আগে সেখানে পৌঁছান। তবে অফিসের সময় শুরু হওয়ার পরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় তিনি হাজিরা রেজিস্টার পরীক্ষা করেন। পরিদর্শনের সময় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতি এবং কর্মস্থলে না এসে হাজিরা খাতায় আগে থেকেই সই করে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদরের এসিল্যান্ড সাদিয়া আক্তারসহ ১৬ জনের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বদলির বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর বলেন, "ঘটনার দিন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি জেলা প্রশাসকও জানতেন। এটা সত্য, আমাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এটি শাস্তিমূলক বদলি নয়।"
এদিকে একই কার্যালয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, তিন এসিল্যান্ডকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফতুল্লার এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। তাই তাকে বদলি করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড ওই দিন ছুটিতে ছিলেন। তার বদলিটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সদরের এসিল্যান্ডের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে আসবে। বাকি ১৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর ব্যাপারে আমরা তদন্ত করছি। তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন