প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরতের নীল আকাশের নিচে, সাদা মেঘের ভেলা এবং মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুল বর্তমানে রংপুরের মানুষের মধ্যে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সবুজের মাঝে ফুটে থাকা সাদা কাশ যেন দূর থেকে শুভ্রতার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর-পাগলাপীর রোডের পাশে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
রংপুর সদর উপজেলার পাগলা পীর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জমি এখন কাশফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুটে থাকা কাশফুল বাতাসের সঙ্গে দুলে দৃষ্টিনন্দন একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করছে। শরতের এই সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছুটে আসছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালের কোমল রোদে কাশফুলগুলো যেন আরও ঝলমল করছে। হালকা বাতাসে সারি সারি কাশফুল একসঙ্গে দুলছে। প্রকৃতির এই শুভ্র আয়োজন দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসছেন।
কাশবনের শুভ্রতার সঙ্গে নির্মল বাতাস উপভোগ করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অনেকেই মুঠোফোনের ক্যামেরায় মনোরম দৃশ্য ধারণ করছেন। কাশফুলের মাঝে ছবি তুলতে ব্যস্ত তরুণ-তরুণী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার জন্যও অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
সকালের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিকেলেও কাশবনের রূপ পরিবর্তিত হয়। বিকেলের নরম রোদে সাদা কাশফুলের ওপর পড়ে সোনালি আভা। সূর্যাস্তের সময় দিগন্তজোড়া কাশবন হয়ে ওঠে আরও মোহনীয়। তখন প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর শরৎ মৌসুমে এই এলাকায় কাশফুল ফুটলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকে। পরিবারগুলো শিশুদের নিয়ে যেমন আনন্দ করছে, তেমনি তরুণ-তরুণীরাও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসছেন।
দর্শনার্থীদের একজন বলেন, "শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহলের মধ্যে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি দেয়। কাশফুলের শুভ্রতা আর খোলা বাতাসে কিছু সময় কাটালে মন ভালো হয়ে যায়।"
প্রকৃতির এই নির্মল আয়োজন মানুষের ব্যস্ত জীবনে স্বস্তির পরশ এনে দেয়। যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি ভুলে কিছুটা সময় প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে পাগলা পীরের এই কাশবন।
শরতের কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এর সঙ্গে মিশে আছে বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য, শৈশবের স্মৃতি ও মাটির প্রতি মানুষের গভীর টান। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর কাশবন যেন প্রকৃতির ভাষায় বলে চলেছে—শরৎ এসেছে, বাংলার প্রকৃতি সেজেছে তার চিরচেনা শুভ্র সাজে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন