প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া ঘাটে গড়াই নদীর ওপর ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পন্ন হয়নি। তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও ৬৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সেতুটি চালু হলে রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে বলেই আশা করছেন এলাকাবাসী।
এছাড়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক পথে যোগাযোগের দূ mesা ৬০ কিলোমিটার কমে যাবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩ জুন সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে তিন দফায় সময় বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ ভাগ। রাজবাড়ীর এলজিইডিতে এখনো অসমাপ্ত কাজের শেষ সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
সম্প্রতি নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সেতুটির চারটি স্প্যান ও দুটি গার্ডার বসানো বাকি রয়েছে। রাজবাড়ী প্রান্তে মাত্র তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিকসংকটের কারণে কাজের গতি কমে গেছে বলে জানা গেছে।
নাদুরিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ প্রতিদিন নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, "সেতু নির্মাণের আশায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম, সেতু চালু হলে বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে মাত্র ১০ মিনিট লাগবে। কিন্তু তার স্কুলজীবন প্রায় শেষ হলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি।"
লাঙ্গলবাঁধ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী থেকে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী তার বিদ্যালয়ে পড়তে আসে। নদী পারাপারের সমস্যার কারণে তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। সেতু চালু হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক পিকুল হোসেন জানান, নিয়মিত মজুরি না পাওয়ার কারণে ১৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ১২ জন কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, "গত চার মাস ধরে তারাও মজুরি পাননি।"
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবদুল হামিদ বলেন, সেতুর কাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় লাগবে। সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।
রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান জানান, সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে কাজের গতি কমেছে। জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পর সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাবে। তারা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন