বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২১ পি.এম
এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিককে তিনি এ তথ্য দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন হাসানুল হক ইনুকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সাজা অপ্রতুল হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর সেদিন বলেছিলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডে ইনুর সম্পৃক্ততা নিয়ে আজকের বিফ্রিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় তদন্ত চলছে, তদন্তে ইনুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে।’ আগামী ১০ আগস্ট এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে।
এর আগে গত ১৫ জুন চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশিলব সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ওই সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক।
অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৩১ মার্চ আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১৪ মে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকেও।
এ মামলার তদন্তে নেমে ঢাকাসহ দেশের ৪ জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়ার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাটহাজারীর কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবদুল ওয়াদুদ সেরেস্তাদার এর ৭৩তম মৃত্যু বার্ষিকী গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থী সকলের উপস্থিতিতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল স্থানীয় মসজিদে খতমে কুরআন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং মোনাজাত।
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন। বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম জুলফিকার, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের পক্ষে সাহাদাত আলী সেলিম এবং সিনিয়র শিক্ষক অছিউদ্দীন এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ বাদশা আলম। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান মাওলানা মো. কলিম উদ্দিন চৌধুরী। পূর্বাহ্নে মরহুমের বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনায় স্থানীয় মসজিদে কোরানখানি, মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ ফরহাদাবাদস্থ মরহুমের পারিবারিক কবরে পুষ্প শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ২ হাজার ১০৪টি মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়েছে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৮টি বাস, ৪টি ট্রাক, ৩টি কাভার্ড ভ্যান, ১১টি সিএনজি ও ১৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯১টি মামলা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ৯টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১৭টি সিএনজি ও ১০৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬০টি মামলা করা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগে ১৭টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ১৩৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৮৪টি মামলা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগে ৭০টি বাস, ৪৫টি ট্রাক, ৬৩টি কাভার্ডভ্যান, ৫৬টি সিএনজি ও ১৭৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৫২টি মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১২টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি ও ৭৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগে ৬টি বাস, ৭টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি সিএনজি, ১২৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০২টি মামলা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে ৩৪টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ৭৪টি সিএনজি ও ১৬১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১৫টি মামলা করা হয়েছে। গুলশান বিভাগে ৬৭টি বাস, ২টি ট্রাক, ১১টি কাভার্ডভ্যান, ২৭টি সিএনজি ও ৫৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২২৪টি মামলা হয়েছে। এছাড়া, অভিযানকালে মোট ৫৭৪টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কুমিল্লার হোমনয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের পরিচালনায় তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ স্থানীয় অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই সচিবায় থেকে ভার্চ্যুয়ালি সম্প্রচারিত জাতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এরপর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন খান, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুস সাত্তার, প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান, প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম, সাংবাদিক মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন, শিক্ষক আবুল বাসার এবং শিক্ষক মো. দাদন মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্য পৌঁছানোর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরে তারা জোর দেন। সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজনদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান শেষে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বছরব্যাপী কর্মসূচি সফল করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) একদিনেই মোট ২ হাজার ৪১১টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে মোট ১ হাজার ৬৫৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই দিনে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে নিষ্পত্তি হয় আরও ৭৫৬টি পুরাতন রিট মামলা। ফলে একদিনে মোট ২ হাজার ৪১১টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ছয় কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ১৯ হাজার ৮৩৬টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৬ হাজার ৭২৪টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ সময়ে মোট ২৬ হাজার ৫৬০টি পুরাতন মামলার নিষ্পত্তি হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চগুলো দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোর বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ