প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত জুলাই মাসে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলনের সময় এক নারীর ছবি বিকৃত করা হয়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মুখবদল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই নারীর ছবির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুক্ত করা হয়। আন্দোলনের সময় বিকৃত ছবিটি বড় বড় ব্যানার এবং পোস্টারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, ওই ছবিসংবলিত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের মাঠে অশালীন স্লোগানও তোলা হয়।
ডিপফেক ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ভুক্তভোগী নারী প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ দিল্লি সাইবার পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ বিরুদ্ধে এফআইআর নিলেও মূল পরিকল্পনাকারী সিজেপি নেতাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাছাড়া, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে আপত্তিকর লিংক বা বিকৃত ছবিগুলো অবিলম্বে সরানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই কারণে, দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ, নিজের আইনি সুরক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবিগুলো অপসারণ নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরাসরি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। এ ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্ট ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপ, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং রত্না সিংকে নোটিশ জারি করেছে।
হাইকোর্ট একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ওই নারী সংক্রান্ত সব আপত্তিকর ছবি ও লিংক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত ওই নারীর জন্য পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। নারীর আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশকেও নোটিশ জারি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি যেখানে বিষয়টি কেবল একজন নারীর নয়, এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও জড়িত। তাঁরা যদি সংবেদনশীল না হন, তবে আমি নিশ্চিত করব যেন তাঁরা সংবেদনশীল হন।’
প্রসঙ্গত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর গত ২৫ জুলাই এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন