১২:২২ পি.এম
সিলেটের সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারত থেকে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে সিলেটের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভের পর বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’ অ্যাখা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। চলতি মাসের মধ্যে বিএসএফের পুশ ইন (সীমান্তের এই পারে জোর করে লোকজনকে ঠেলে দেওয়া) করার ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার শুন্য রেখায় এখনও অবস্থান করে আছে পুশ ইন-এর শিকার মানুষ। দেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। তবে সুযোগ বুঝে বিএসএফ যাতে ফের পুশ ইন করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। বিজিবি বলছে, যদি কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে অবৈধভাবে সীমান্তের এই পারে পুশ ইন না করে আইন অনুযায়ী তাদের প্রত্যাবর্তন করা উচিত। রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বিএসএফ সেই আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে অবৈধভাবে সীমান্তের এই পারে ঠেলে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। বিজিবি জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বিজেপি সরকারের আসার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুশ ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য সিলেট সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)। ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশ-ইন ঠেকাতে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিজিবি। বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, ভারত থেকে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকানোর জন্য সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করার সাথে সাথে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, চিহ্নিত জায়গায় স্ট্যান্ডবাই ডিউটি রাখা হচ্ছে, নিজস্ব ও বেসামরিক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে, মাইকিং চলছে, গণসংযোগ হচ্ছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। পুশ-ইন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকান্ড সম্পর্কে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য প্রদান করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক কর্ণেল নাজমুল হক জানান, সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বিজিবির এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন