মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪০ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির মধ্যে একটি নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তীব্র সংকটের সৃষ্টি করেছে। অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই বিরোধ ইতোমধ্যে আদালতের অভ্যন্তরে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এই সংকটের সূত্রপাত ঘটে একটি বড় ধরনের জালিয়াতি কেলেঙ্কারির তদন্তকে কেন্দ্র করে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারেও এর প্রভাব পড়েছে। নির্বাচনে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কট্টর ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দুই বিচারপতি মুখোমুখি অবস্থানে থাকবেন। এই অধিবেশনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
একদিকে রয়েছেন আলেকজান্দ্রে দে মোরেস, যিনি বলসোনারো পরিবারের সবচেয়ে ঘোর রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রয়েছেন আন্দ্রে মেন্ডোনকা, যাকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দিয়েছিলেন জাইর বলসোনারো।
প্রকাশ্য বিরোধের সূচনা ঘটে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। সেদিন মেন্ডোনকা একটি পুলিশের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনেন। ওই প্রতিবেদনে কারাগারে থাকা ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারোর পাঠানো কিছু বার্তা প্রকাশ করা হয়, যা তিনি মোরেসের বলে কথিত একটি নম্বরে পাঠিয়েছিলেন। ওই বার্তায় বিচারপতির সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, কারণ তিনি একটি জালিয়াতির তদন্তের মুখোমুখি ছিলেন।
মোরেস মেন্ডোনকার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এর জবাবে।
বলসোনারোর ‘চরম বিরোধী’ মোরেস
কঠোর দৃষ্টির কারণে ‘জান্দাও’—অর্থাৎ ‘বিগ অ্যালেক্স’—নামে পরিচিত আলেকজান্দ্রে দে মোরেস বর্তমানে ব্রাজিলের অন্যতম ক্ষমতাধর এবং সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।
দেশটির প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক বা বিচারিক সংঘাতেই তার উপস্থিতি দেখা গেছে। ফলে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে তিনি প্রায় নিয়মিতই শিরোনামে থাকেন।
গত বছর তিনি সেই বিচারপ্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন, যার ফল হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে ক্ষমতা দখলের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টায় ভূমিকার জন্য ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালতের প্রধান হিসেবে মোরেস ক্ষমতার অপব্যবহার ও গণমাধ্যমের অপব্যবহারের অভিযোগে বলসোনারোকে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছিলেন।
মোরেস ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’ নিয়ে তদন্তের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অনলাইনে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ঠেকাতে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার ঘটনাও রয়েছে।
২০২৪ সালে তার নির্দেশে ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ৪০ দিনের জন্য বন্ধ ছিল। প্ল্যাটফর্মটি ভুল তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে দেওয়া আদালতের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দেশটির ডানপন্থীরা অভিযোগ করে আসছে, মোরেস তার ক্ষমতা ব্যবহার করে অনলাইনে রক্ষণশীল মতামত দমন করছেন। কিছু মানবাধিকার সংগঠনও বিচারিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
জাইর বলসোনারো নিজে মোরেসকে ‘দুর্বৃত্ত’ এবং ‘স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০১৭ সালে মধ্য-ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের মোরেসকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে মনোনীত করেন। এর আগে মোরেস তেমের সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় বামপন্থীদের একটি অংশ তার নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল।
তবে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ভুল তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় মোরেসের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট লুলা।
মোরেসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গেও বিরোধ তৈরি হয়েছে। বলসোনারোর বিচারপ্রক্রিয়ায় ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রাম্প এই বিচারকে তার মিত্র বলসোনারোর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
পরে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে মোরেস প্রকাশ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য লুলাকে ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, যিনি ৮৩ বছর বয়সেও কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্রিয়, শুটিং এবং টেলিভিশনের পর্দায় নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। তার ফিটনেস রুটিন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’ এর একটি পর্বে তিনি নিজের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কথা শেয়ার করেছেন।
অমিতাভ বচ্চন সম্প্রতি তার খাদ্যাভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। এই পরিবর্তনের ফলে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন নিজ হাতে নতুন নতুন রান্না করে তাকে খাওয়াচ্ছেন। বিগবি জানান, "আমি ভাত ও ক্ষীর (পায়েস)— দুটিই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। তাই জয়া আমার জন্য দারুণ একটা খাবার বানিয়েছিল। ম্যাঙ্গো ক্ষীর। দুর্দান্ত খেতে!"
এ কিংবদন্তি অভিনেতা আরও বলেন, "জয়া এই শো দেখে। তাই এখানে আমি জয়াকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আম দিয়ে তোমার বানানো ক্ষীর বড়়ই ভালো লেগেছে আমার।" তবে প্রশ্ন উঠছে— বয়স বাড়লে কি সত্যিই ভাত বাদ দেওয়া উচিত? ভাত না খেলে শরীরে কী পরিবর্তন ঘটে? এবং ভাতের বদলে কী খাওয়া যেতে পারে?
সাধারণত খাওয়া হয় যে পালিশ করা সাদা ভাত, তা কার্বোহাইড্রেটের একটি প্রধান উৎস। এতে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণও সীমিত। ফলে সুষম খাবারের বাকি অংশ ঠিক থাকলে শুধুমাত্র সাদা ভাত বাদ দেওয়ার কারণে নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি হবেই, এমন নয়।
তবে এর মানে এই নয় যে, ভাত পুষ্টিকর নয়। পালিশ না করা বা আংশিক পালিশ করা চালের মধ্যে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামসহ বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান বিদ্যমান। তাই যদি কেউ দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাত বাদ দেন, তবে ওই পুষ্টিগুলো অন্য খাবার থেকে পূরণ করতে হবে।
যারা নিয়মিত ভাত খান, তাদের জন্য হঠাৎ ভাত বন্ধ করা একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে। ফলে প্রথম দিকে কারো কারো দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে, শক্তি কমে যেতে পারে অথবা খিদে বেশি পেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন সাময়িক। খাবারে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। পাকা আম নিজেই বেশ মিষ্টি হয়। তাই ক্ষীর তৈরির সময় বাড়তি চিনি না দিলেও চলে বা খুব সামান্য দিলেই হয়। চিনি ছাড়া বানালে এটি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাড়িতে বানানো মিষ্টি অবশ্যই দোকানের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর।
তবে জয়া ঠিক কী কী উপাদান দিয়ে এ মিষ্টিটি তৈরি করেছেন, তা জানা যায়নি। অমিতাভের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকে মাথায় রেখেই নিশ্চয়ই রান্না করেছেন এ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভাতের বদলে কী কী খাওয়া যেতে পারে—
১. রাগি, বাজরা, কোদো, পরসো-সহ বিভিন্ন মিলেট।
২. কিনোয়া, বাকহুইট, রাজগিরা।
৩. দানাশস্য, বার্লি, ওট্স।
৪. স্টার্চযুক্ত সব্জি, যেমন, রাঙাআলু, ওল ইত্যাদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ তার ছোটবেলার বন্ধু স্যাম এবং টম কারানের কথা স্মরণ করেছেন। দুই পরিবারের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা একসঙ্গে সফর করত। ক্রিকেট ডট এইউ ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে মার্শ কারান পরিবারের বাড়িতে ক্রিকেট খেলার অনেক স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তিনি সেই স্মৃতিগুলোকে ‘খুব ভালো’ এবং বিশেষ বলে উল্লেখ করেন।
মার্শের ছোটবেলায় জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলার স্বপ্ন গড়ে উঠেছিল। কারণ, তার শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় সেখানে কেটেছিল। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত, তার বাবা এবং সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জিওফ মার্শ জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাবার কাজের সুবাদে পুরো পরিবার জিম্বাবুয়ে চলে আসে, ফলে তরুণ মিচেল মার্শের জিম্বাবুয়ের সংস্কৃতি এবং ক্রিকেটের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
এই গভীর ভালোবাসার কারণে এক সময় তার মনে জিম্বাবুয়ের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন জেগেছিল। মার্শ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এক সময় সত্যিই জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলতে চেয়েছিলাম।’ যখন মার্শ পরিবার জিম্বাবুয়ে ছিল, তখন মিচেলের বড় ভাই শন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। সেই সময় মিচেল হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিকেট খেলতেন। তার সঙ্গী ছিলেন বাবার কোচিং সহকারী কেভিন কারানের ছোট ছেলেরা।
সেই উঠানে ও ক্লাবে খেলা ক্রিকেটের ফলে অনেক প্রতিভার জন্ম হয়েছে। টম, বেন ও স্যাম কারান তিনজনই পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেছেন। টম ও স্যাম ইংল্যান্ডের হয়ে এবং বেন জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলছেন। এই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে জিম্বাবুয়ে দলের জন্য বেনের নাম রয়েছে।
ক্রিকেট ডট এইউয়ের ভিডিওতে মার্শ বলেন, ‘ওখানে কারান ছেলেরা আছে — স্যামি ও টম। আমার মনে হয় ওটা শ্রীলঙ্কায় হয়েছিল, তবে আমি ভুলও হতে পারি। আমরা পরিবার নিয়ে সফর করতাম এবং কেভিন ছিলেন বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। কারান ছেলেরা কার্যত এখানে আমাদের সঙ্গেই বড় হয়েছে। এগুলো সত্যিই অনেক বিশেষ স্মৃতি। তাদের বাড়িতে উঠানে অনেক লড়াই হয়েছে। খুব ভালো স্মৃতি।’
মার্শ একসময় জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই দেশটি তার হৃদয়ের কাছে থেকে গেছে। এবার হারারেতে তিনি তার ১০০তম ওডিআই খেলতে নামবেন। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওডিআইতে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মারদিন, যা তুরস্কের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, সেখানে ভ্রমণের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক নাগরিক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফতি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই পর্যটকের নাম শায়েভন। শহরটি ভ্রমণকালে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে মুফতি কার্যালয়ে তার ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের অনুষ্ঠানটি আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারানের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর শায়েভন নতুন নাম আবদুল্লাহ রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে, মুফতি সুলেমান বারান নব মুসলিম আবদুল্লাহর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন।
মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য তুরস্কের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব শতাব্দী ধরে এই শহরের স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ফলে, তুরস্কের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা নিয়মিত মারদিন ভ্রমণে আসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোহামেদ আল ফায়েদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রায় ৩০০ নারী ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ কোটি পাউন্ড দাবি করেছেন। বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর হ্যারডসের সাবেক মালিকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। তবে হ্যারডসের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের জন্য যে অর্থ রাখা হয়েছে, তা এই পরিমাণের দ্বিগুণেরও বেশি।
যুক্তরাজ্যের আইন প্রতিষ্ঠান কেপি ল প্রায় ২৭৫ জন অভিযোগকারীর প্রতিনিধিত্ব করছে, যাদের অধিকাংশই হ্যারডসের সাবেক কর্মী। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী লুসি ট্রেনর জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে হ্যারডসের জন্য বরাদ্দকৃত ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ কোটি পাউন্ড এবং সর্বোচ্চ ১৫ কোটি পাউন্ড হতে পারে।
ট্রেনর আরও বলেন, প্রতিটি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের হারানো আয় ও পেনশন, চিকিৎসার খরচসহ অন্যান্য ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কেপি ল কর-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করেছে এবং কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে। তাঁরা সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট পদগুলোর বেতন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন।
হ্যারডসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বরাদ্দ কোনো সর্বোচ্চ সীমা নয়, বরং এটি একটি আনুমানিক হিসাব। প্রতিটি ব্যক্তির দাবি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সেই অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিশ্লেষণে হ্যারডসকে সহায়তা করেছে বাইরের আইনজীবী ও নিরীক্ষকেরা।
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার সব যোগ্য ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে হ্যারডস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তাঁর ভাষ্য, ২৬০ জনের বেশি ব্যক্তি হ্যারডসের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১১৩টি দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের আইনজীবীদের পছন্দের পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
বহু বছরের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
মোহামেদ আল ফায়েদের বিরুদ্ধে বহু নারী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর হ্যারডস যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। পরে হ্যারডস আল ফায়েদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য ‘পরোক্ষ দায়’ বা ‘ভিকারিয়াস লায়াবিলিটি’ স্বীকার করে।
১৯৮৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লন্ডনের হ্যারডসের মালিক ছিলেন মিশরীয় ধনকুবের আল ফায়েদ। ২০১০ সালে তাঁর পরিবার প্রতিষ্ঠানটি কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের কাছে বিক্রি করে দেয়। ২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান আল ফায়েদ।
নারীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বছরের পর বছর অস্বীকার করার পর ২০২৪ সালে হ্যারডস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা অভিযোগগুলোতে ‘চরমভাবে হতবাক’ এবং ‘সঠিক কাজটি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’।
এরপর ২০২৫ সালের মার্চে আল ফায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা ব্যক্তিদের জন্য নিজস্ব ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করে হ্যারডস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, এ প্রস্তাব ভুক্তভোগীদের জন্য আকর্ষণীয়, কারণ এর আওতায় তাঁদের অতিরিক্ত আইনি খরচ দিতে হবে না। চলতি বছরের মার্চে নতুন করে দাবি গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।
হ্যারডস জানিয়েছে, ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বরাদ্দটি তাদের হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের পরিমাণ—তা হ্যারডসের নিজস্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোক কিংবা নিজস্ব আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হোক।
হ্যারডসের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি পর্যন্ত দাবিদারদের ৪০ লাখ পাউন্ড পরিশোধ করা হয়েছে।
কারও ক্ষতিপূরণ পৌঁছাতে পারে ১০ লাখ পাউন্ডে। কর্মজীবন ও আয় হারানোর ক্ষতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ ট্রেভর গিলবার্ট বলেন, কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি ক্যারিয়ার গড়ার পথে ছিলেন, কিন্তু পরে তা চালিয়ে যেতে না পারলে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ পাউন্ড হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুব বেশি আয় করতেই হবে, এমন নয়।
তিনি বলেন, তার অভিজ্ঞতায় সাধারণত ক্ষতিপূরণপ্রার্থীরা তাঁদের দাবির সর্বোচ্চ সীমার দিকে মামলা এগিয়ে নেন, আর বিবাদীপক্ষ চেষ্টা করে সর্বনিম্ন সীমার দিকে রাখতে। পরে আলোচনা বা সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
যৌন নির্যাতনের মামলায় বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জেমস কাউন্সেল বলেন, উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া দাবিদারদের জন্য কঠিন হতে পারে। কারণ ইংল্যান্ডের আদালত ঐতিহাসিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিপূরণ দিয়ে এসেছে।
দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি
ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা তাঁদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চান। এদিকে হ্যারডস ও আল ফায়েদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে একটি আইনি বিরোধ চলছে। আল ফায়েদের পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে একজন স্বাধীন প্রশাসক নিয়োগের চেষ্টা করছে হ্যারডস।
হ্যারডস জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের ব্যয় বহনে সহায়তা করার জন্য তারা আল ফায়েদের সম্পত্তির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করছে। কেপি লকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনা করবে না। কেপি লর বেশির ভাগ মামলার দাবিদারই হ্যারডস ও আল ফায়েদের সম্পত্তি—দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে নভেম্বরে শুনানি হওয়ার কথা। ওই সময়ই বিচারক সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, আবার পরবর্তী সময়েও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।
হ্যারডসের মুখপাত্র বলেন, ‘নতুন ও স্বাধীন নির্বাহক নিয়োগ সব ভুক্তভোগীর স্বার্থে—শুধু একটি আইন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করা ব্যক্তিদের জন্য নয়, বরং সম্পত্তির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দাবি থাকা সবার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যারডস ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ পেতে বাধা দিচ্ছে—তাঁদের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরামর্শ দেওয়া হলে তা বাস্তবতার ভুল উপস্থাপন এবং এই প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের আস্থার জন্য ক্ষতিকর।’
আল ফায়েদের সম্পত্তির প্রতিনিধিত্বকারী আইন প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উরকহার্ট অ্যান্ড সুলিভান এলএলপির অংশীদার জাস্টিন মাইকেলসন বলেন, সম্পত্তির নির্বাহকেরা অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তবে আইনি কারণে এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে পারবেন না।
ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া যেভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তা দাবিদারদের জন্য ‘অত্যন্ত কষ্টদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন কেপি লর আইনজীবী লুসি ট্রেনর।
কেপি ল যাঁদের প্রতিনিধিত্ব করছে, তাঁদের মধ্যে হ্যারডসের ফ্যাশন ক্রেতা, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি এবং ব্যক্তিগত সহকারীরাও রয়েছেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই কর্মজীবনের প্রথম দিকে ছিলেন। অভিযোগের কারণে তাঁদের কারও কারও ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু দাবিদারের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আইন প্রতিষ্ঠানটি। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে আইন প্রতিষ্ঠানটি একটি অংশ নেবে।
আল ফায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের একজনের স্বামী কিটন স্টোন বলেন, ‘হ্যারডস গত দুই বছর ধরে বিশ্বকে বলে আসছে যে তারা ভুক্তভোগীদের পাশে আছে। কিন্তু নারীরা বাস্তবে যা দেখেছেন, তা হলো বিলম্ব। তাঁদের কেউ কেউ এরই মধ্যে ৩০ বা ৪০ বছর অপেক্ষা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখন সত্তরের কোঠায়।’
আল ফায়েদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন স্টোন। তাঁর সেই অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই ২০২৪ সালে বিবিসিতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচারিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ