প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের বিসিক শিল্প নগরীতে আবু তাহের ছানা কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করেছে। এই সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কাম কারিগর জিল্লাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে কোম্পানির মূল মালিক জিল্লালের আপন ভাই আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেওয়া হয়। এ সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বশির উল্যার ছেলে। তিনি আপন ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান হলেও, সেখানে তিনি মাসিক বেতনে চাকরি করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি বিক্রির জন্য অর্ডার নেয়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য বিভাগের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি কার্টুন বরাবর ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি কোটা রয়েছে। এগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই বিনষ্ট করা হয়। নকল ঘি উৎপাদনের কারণে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাই জিল্লালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
জিল্লাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে স্বীকার করেছেন যে, তারা সয়াবিন তেল, ডাল্ডা ও ঘি’র ফ্লেভার ব্যবহার করে ঘি তৈরি করে। তারা ৯০০ গ্রাম ঘি কোটা দোকানে প্রায় ১৪০০ টাকায় বিক্রি করে। তবে তাদের কারখানায় সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।
জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী বলেন, মার্জারিন ঘি উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নকল ঘি তৈরি করে আসছিল। এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। ঘি’র কোটায় নগদ টাকার কুপন রয়েছে। এই ঘি তারা বাবুর্চির মাধ্যমে সরবরাহ করে আসছে। এছাড়া নোংরা পরিবেশে এ ঘি তৈরি করা হচ্ছিল। কোম্পানি আবু তাহের ছানা নামে বিসিক থেকে প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি নিয়েছিল, কিন্তু এখন তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ নাম দিয়ে নকল ঘি তৈরি করছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন। জিল্লাল একই পণ্য উৎপাদন ও অন্যান্য সব কাজ করে থাকেন। এ কারণে নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি পুনরায় একই কাজ করা হয়, কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন