প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার বিকেল ৩টার সময়ের ঘটনার পর রাত ৩টার দিকে সদর দক্ষিণের বিজয়পুর থেকে পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনার পর ওই আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর ডিবি অভিযানে নামে। রাত প্রায় ৩টায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তাকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসামি গ্রেফতারের পর কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, "সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীকে গ্রেফতার করার জন্য আমরা জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। অপরাধীরা আইনের আওতায় আসলে দ্রুতই অপরাধ কমে আসবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার ধৃষ্টতাও ভবিষ্যতে কেউ দেখানোর সাহস করবে না।"
এর আগে, দুপুরে, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনা ঘটেছে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায়।
হামলার শিকার সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, "বুধবার দুপুরে আমরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে উঠতে যাচ্ছিলাম। সড়কের সামনে স্থানীয়দের তৈরি করা লোহার বেরিকেডের মধ্যে কয়েকটি গাড়ি আটকে পড়ে। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে আমি যানজটের কারণ জানতে সামনে এগিয়ে যাই। লোহার বেরিকেডটি উপরের দিকে ধরে একটি একটি করে গাড়ি সরে যেতে সহযোগিতা করি। এর মধ্যে স্থানীয় শাওন নামের এক যুবক এসে কেন যানজট নিরসন করছি এবং মানুষকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি, এ নিয়ে আমার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িত হয়। একপর্যায়ে সে আমার গায়ে ধাক্কা দেয়। পরে আমাকে সেভ করার জন্য সহকর্মী মারুফ এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।"
তিনি আরও বলেন, "এ সময় উগ্র ওই ছেলেটা কোনো কারণ ছাড়াই রড হাতে নিয়ে আমাদের দিকে তেঁড়ে আসে। আমরা তাকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেছি। স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে যায়। আমরাও আমাদের গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে পিছন থেকে এসে শখ করে মানুষের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে সে সেন্সলেস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমিও এগোতে গেলে সে আমার ওপর হামলা করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন