প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত নয়, বরং এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তবে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের আলোচনায় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন জাহেদ উর রহমান।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
‘ফ্যাসিবাদী’ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন জুলাই আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এর ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে গতকাল হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়
এছাড়াও, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারের পর দলটির পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না—এ বিষয়ে কিছু অনুমান করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে, এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই।
আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করব ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটাবার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।’
ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।’
ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন