প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ায় ‘টু ইউ’ নামে একটি সামাজিক সেবা চালু হচ্ছে, যা অপরিচিত ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। এই সেবার মাধ্যমে যে কেউ ২০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের একটি ছোট ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করে অপরিচিত মানুষের জন্য উৎসাহ, সহমর্মিতা ও ভালো থাকার বার্তা পাঠাতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে চলমান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভাল অব ইয়ুথ-২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগটি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক উদ্যোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ডোব্রো.আরএফ এই উদ্যোগটি উপস্থাপন করেছে। উৎসবের ডোব্রো স্ট্যান্ডে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কণ্ঠে বার্তা রেকর্ড করছেন। পরে এসব বার্তা একটি যৌথ ভয়েস লাইব্রেরিতে যুক্ত করা হবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের উৎসব অংশগ্রহণকারী, শিশু, স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও ব্লগাররা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রথম দিনেই ৩০০টির বেশি ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করা হয়েছে।
উৎসব শেষে ‘#WeAreTogether’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভিকন্টাক্টে একটি চ্যাটবটের মাধ্যমে ‘টু ইউ’ সেবা চালু করা হবে। রেকর্ড করা বার্তাগুলো একসঙ্গে কাউকে পাঠানো হবে না। যখন কেউ নিজের জন্য একটি ভালো কথা শুনতে চাইবেন, তখন তিনি সেবা থেকে একটি বার্তা চাইতে পারবেন। এরপর ভয়েস লাইব্রেরিতে থাকা একটি বার্তা এলোমেলোভাবে তার কাছে পৌঁছে যাবে।
বার্তাটি কে দিয়েছেন, তা আগে থেকে জানা যাবে না। কোনো দিন শিশুর কণ্ঠে বার্তা আসতে পারে, আবার অন্যদিন কোনো দেশের শিক্ষার্থী বা পরিচিত শিল্পীর কণ্ঠও শোনা যেতে পারে। সেবাটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং পাওয়া বার্তা অন্যদের সঙ্গেও শেয়ার করা যাবে।
ডোব্রো.আরএফের প্রধান এবং রাশিয়ার স্টেট ডুমার যুবনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আর্তেম মেতেলেভ বলেন, “অনেক সময় মানুষের পরামর্শ বা বিশেষজ্ঞের সহায়তার প্রয়োজন হয় না। একজন বাস্তব মানুষের কণ্ঠে ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’—এমন একটি কথা শোনাই কখনো কখনো যথেষ্ট হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “‘টু ইউ’ মাত্র আধা মিনিট সময়ের বিনিময়ে একজন অপরিচিত মানুষকে অনুভব করাতে পারে যে তিনি একা নন। ডিজিটাল যুগে স্বেচ্ছাসেবার ধরন এমনও হতে পারে।”
ডোব্রো.আরএফ ও রাশিয়ান পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের যৌথ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে করা এক গবেষণায় ৭০ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত না হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে সময়ের অভাবের কথা বলেছেন। আর ‘ওয়ার্ল্ড গিভিং রিপোর্ট-২০২৬’ অনুযায়ী, আরো ২০ শতাংশ রুশ নাগরিক দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান, কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন, তা জানেন না।
এই বাস্তবতায় ‘টু ইউ’তে অংশ নিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। এক মিনিটেরও কম সময়ে একটি ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করেই যে কেউ উদ্যোগটির অংশ হতে পারবেন।
উৎসবে ডোব্রোর নানা আয়োজন
ইয়েকাতেরিনবার্গের কালচারাল কোড প্রদর্শনী কেন্দ্রের ২ নম্বর প্যাভিলিয়নে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডোব্রো স্ট্যান্ড চালু থাকছে। সেখানে ভয়েস মেসেজ রেকর্ডের পাশাপাশি ‘লার্নিং থ্রু সার্ভিস’ কর্মসূচির প্রো-বোনো স্বেচ্ছাসেবক রেজিস্ট্রিতে নাম লেখানোর সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন ভলান্টিয়ারিং’ সংশোধন ও হালনাগাদের বিষয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকছে। শিশুদের জন্য রয়েছে ‘কাইন্ড কার্টুন’-এর একটি ফ্রেম রং করার আয়োজন। প্রথম দিনেই অংশগ্রহণকারীরা ৭৬১টি ফ্রেম রং করেছেন।
ডোব্রো কমিউনিটিতে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। কমিউনিটির সদস্য হতে প্রত্যেককে অন্তত চারটি ভালো কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। ছয় বছর বা তার বেশি বয়সীরা এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন।
আয়োজকদের মতে, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘টু ইউ’ সহজ একটি ডিজিটাল সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। পরিচয় প্রকাশ না করেই যে কেউ একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে উৎসাহের বার্তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন