প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের প্রস্তাব তুলে দেওয়ার কথা। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া নতুন করে কয়েক লাখ সেনা সমাবেশ করতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে দিয়েছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি, রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে যুদ্ধ অবসানের দিকে দেশটির পরিকল্পনা পরিবর্তনেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টা যেন স্থবির হয়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়েছে তিন দফায়, কিন্তু এরপর থেকে আলোচনা থমকে গেছে।
মস্কো ও কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই অঞ্চলের সশস্ত্র সংঘাতের কারণে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে।
এদিকে, জেলেনস্কি তাঁর দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া নতুন করে সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চান, যা দেখে মনে হবে রাশিয়ার জনগণ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। এরপর তথাকথিত নির্বাচনের পর বছরের শেষ নাগাদ কয়েক লাখ রুশ নাগরিককে দ্রুত সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরও একই সংখ্যক মানুষকে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর বাইরে, বর্তমানে যে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগের প্রচেষ্টা চলছে, সেটিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ায় আংশিক সেনা সমাবেশের অনুমোদন দিয়েছিলেন পুতিন। ওই সময়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়া নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও रাশিয়ার কর্মকর্তারা এসব দাবি অস্বীকার করছেন। গত মার্চে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, নতুন সেনা সমাবেশের বিষয়টি ‘আলোচ্যসূচিতে নেই’।
এ ছাড়া, গত মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভও বলেছেন, দেশটিতে নতুন করে সেনা সমাবেশের ‘কোনো প্রয়োজন নেই’। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি ‘মিথ্যা উসকানি’ ও ‘প্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন