প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লাঞ্ছিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে।
সোমবার সরেজমিনে থোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার ২৮ আগস্ট বিকেলে অসুস্থ ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে
যান কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের মোর্শেদা
বেগম। তখন তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে
প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না। এমনকি ‘ভিজিট না দিলে রোগ ভালো হবে না বলেও
হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ছেলের চিকিৎসা
করাতে পারেননি। শুক্রবার ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয়
একটি ফার্মেসিতে ছেলেকে দেখাতে যান। পরে ওই ফার্মেসির সহযোগিতায় পরিচিত
একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বিনামূল্যে কিছু পরীক্ষা করান। পরীক্ষার
রিপোর্ট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি
মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
মোর্শেদা বলেন, আমাকে বলা হয়, তার পরামর্শ না নিয়ে কেন পরীক্ষা করিয়েছি।
অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন তার কাছে এসেছি, এ নিয়েও কথা শোনানো
হয়। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন
না এবং রোগী ভালো হবে না বলেও জানানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ডাক্তারকে টাকা দিতে গেলেই সমস্যা হয়? ফাইজলামি
করতে এখানে এসেছেন’এ ধরনের কথা বলে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে। এতে
তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা আ: খালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া তিনি
কিছুই বোঝেন না, দুর্ব্যবহার তার নিত্য দিনের সঙ্গী এছাড়াও নির্দিষ্ট
ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকেন তিনি।
কুয়াকাটার আরেক বাসিন্দা উখিন চান রাখাইন জানায়, আমার বোনের পা ভেঙে হাসপাতালে
নিয়ে গেলে তিনি ( মেডিকেল অফিসার রিয়াজ) বলেন, কোনো সমস্যা হয়নি। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন।
পরবর্তীতে পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বরিশালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে
হয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রিয়াজ বলেন, আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ
করিনি। তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর আমি তাকে চিকিৎসা দিয়ে দিয়েছি।
কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশলয়
সাহা জানান, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি কর্তব্যরতদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে
সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
তবে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়ার কোনো
সুযোগ নেই বলে জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান
মিঞা বলেন, সরকারি উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে
থাকাকালীন হাসপাতালে বসে কোনো ভিজিট নেওয়ার ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি তারা
সরকার নির্ধারিত অল্প কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন