প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৯৯৯ নম্বরে তিনদিনে শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের চারটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন), শনিবার (২৭ জুন), রোববার (২৮ জুন) গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মাওনা এলাকার জজ মিয়ার ছেলে আরিফ (৪০), ময়মনসিংহের ভালুকার তুন্দাপাড়ার বাদল রবি দাস (৪৫), রাজশাহীর পূর্বপাড়া পুঠিয়ার পশ্চিমবঙ্গের মৃত জসিমউদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৬৬) এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মনির হোসেন (২১)।
রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মাওনা থেকে একজন বাবা ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, তার ৫ বছরের শিশুকন্যাকে ৪০ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। ৯৯৯ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রূপগঞ্জ থানায় জানানো হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার এএসআই তাহেরা খাতুন এবং বিষয়টি কলার ও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সাথে তদারক ও সমন্বয় করছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই মোজাফফর হোসেন।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনগণের সহায়তায় জনরোষের শিকার অভিযুক্ত মো. আরিফকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সংক্রান্তে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরিফ রূপগঞ্জের মাওনা এলাকার জজ মিয়ার ছেলে।
শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকার দক্ষিণ হবির বাড়ি খন্দকার পাড়া থেকে একজন কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, সেখানে ৮ বছরের এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৯৯৯ থেকে বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভালুকা থানায় জানানো হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল ফারজানা আক্তার। বিষয়টি কলার ও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সাথে তদারক ও সমন্বয় করছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই ওয়াহাব মিয়া। সংবাদপ্রাপ্ত হয়ে ভালুকা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনগণের সহায়তায় অভিযুক্ত বাদল রবি দাসকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সংক্রান্তে একটি মামলা করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজশাহীর পুঠিয়ার ডিলমারিয়া থেকে একজন কলার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, সেখানে ১১ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
৯৯৯ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুঠিয়া থানায় জানানো হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল পাপন ভুঁইয়া এবং বিষয়টি কলার এবং সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সাথে তদারক এবং সমন্বয় করছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. মনির। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানার একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনগণের সহায়তায় অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সংক্রান্তে একটি মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মসজিদের মক্তবে সাত বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ। উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামতবাগচী আশকর পাড়া জামে মসজিদ ও মক্তব থেকে শিক্ষক মনির হোসেন (২১) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মনির হোসেন ওই গ্রামের আকন্দ পাড়ার মিলন মিয়ার ছেলে ও ওই জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং মক্তবের শিক্ষক। শুক্রবার বিকেলে মক্তব ছুটির সময় মুয়াজ্জিন এক শিশুকে কৌশলে আটকে রাখেন। পরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় শিশুটি চিৎকার দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী মসজিদটি ঘেরাও করে রাখে। এ সংক্রান্তে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভবে সাদুল্লাপুর থানায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিষয়টি জানানো হয়। ৯৯৯ নম্বরে কলটি রিসিভ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল হাজেরা আক্তার। বিষয়টি কলার ও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সাথে তদারক ও সমন্বয় করছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই মহিউদ্দিন মুন্না। ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে সাদুল্লাপুর থনার পুলিশ ওই শিক্ষকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আটক শিক্ষক মনির হোসেনকে শনিবার দুপুরে গাইবান্ধায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম ৯৯৯- এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন