প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামীকাল বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জানা গেছে, বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন। প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তারা সরব হতে পারেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, সরকার ইতোমধ্যে ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। সংসদে আমরা সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরব, কারণ দেশ গঠনে তাদের কোথায় সমস্যা রয়েছে তা আমাদের জানাতে হবে। সরকারের কাছে আমরা জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, কারণ জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
সরকারদলীয় এমপিরা বিরোধী দলের এই অবস্থান সম্পর্কে জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে এবং ইস্যু উত্থাপন করবে, এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং নজরদারি ক্যামেরার আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন