প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় নিরাপদ ও টেকসই পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সোসাইটি, ঢাকা ওয়াসা ও ডিএনসিসির অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বারিধারা সোসাইটি, গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটি ও নিকেতন সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ডিএনসিসি এবং ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন (সুয়ারেজ) ব্যবস্থা থাকলেও অনেক এলাকায় এখনো সেপটিক ট্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাস্তবে বহু স্থানে পয়োবর্জ্য সরাসরি লেক, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই কারণে পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, মশার বংশবিস্তার এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে ডিএনসিসির প্রশাসক গুলশান, বনানী এবং বারিধারা লেকসহ সব জলাধারে পয়োবর্জ্যের অবৈধ নিষ্কাশন বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন।
সভায় বারিধারা, গুলশান, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা প্রশাসকের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় আরো জানানো হয়, নিরাপদ পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই হয়েছে। ওই সমঝোতার ভিত্তিতেই ডিএনসিসি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পাঁচটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে আগামী দুই মাস ড্রাই-রান কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি সক্ষমতা, সেবার মান এবং কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। যদি সফলভাবে ড্রাই-রান সম্পন্ন হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকাগুলিতে পূর্ণাঙ্গ সিডিউল ডিস্লাজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হবে। একই সঙ্গে জলাশয় দূষণ কমবে, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন