প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শনিবার, রাজধানীর আইইবি ভবনে আয়োজিত হয় আইইবির জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশনের সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে তাদের মেধা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
আজ শনিবার, রাজধানীর আইইবি ভবনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “আইইবির জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬” এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবন বান্ধব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পর অনেক মেধাবী প্রকৌশলী বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে যাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য এসব মেধাবী জনশক্তিকে দেশে ধরে রাখা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা দেশের ভেতরে থেকেও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে, শিল্পায়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি যোগ করেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে প্রকৌশলীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের উপর জোর দেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ব্যয়-সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা মেনে চলতে হবে।
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখার বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে দেশের প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীলতা, নিরাপত্তা, আলো-বাতাস ও পরিবেশগত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
মন্ত্রী বলেন, একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে প্রকৌশলীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের মানবসম্পদকে বিশ্বমানের সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং এ যাত্রায় প্রকৌশলীদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভুঁইয়া এবং উপ-কমিটির কো-আহ্বায়ক প্রকৌশলী সাবির আহমেদ ওসমানী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইসরাত জাহান (জেসমিন)।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নবীন ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, আইইবি জব ফেয়ার ও প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬-এর মাধ্যমে তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, দেশের প্রকৌশল খাতের উন্নয়ন এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন