প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটেন পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তিনি আরও জানান, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, "অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ওপর যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা অন্যায়ের সমালোচনা করে বসে থাকার সময় শেষ হয়েছে। এখন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আজ আমরা আরও দুর্ভোগ এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।"
যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে আসছে। এই ব্যবস্থার আওতায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, তবে ইসরায়েলি সরকার এই ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
মিলিব্যান্ড উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ মনে করে। তিনি বলেন, "পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ সংঘটিত হচ্ছে।"
কী থাকছে নিষেধাজ্ঞায়
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। পাশাপাশি, বসতি সম্প্রসারণের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের ভেতরে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে পার্থক্য করবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আপত্তি
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে, ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত লন্ডন ও তেল আবিবের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যে প্রভাব কতটা?
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৮ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ হলো, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের পরিমাণ দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থান কঠোর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্য তার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাইছে। সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন