প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া চীনের সাথে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, জাকার্তা এবার চীনের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে চীনের তৈরি প্রথম ব্যাচের জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘রিপাবলিকা’র সূত্রে জানা গেছে, দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান জনসাধারণকে অধৈর্য না হয়ে ‘কেবল অপেক্ষা করার’ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব যুদ্ধবিমান ইন্দোনেশিয়ায় এসে পৌঁছাবে।
জাকার্তা কতগুলো যুদ্ধবিমান কিনছে, সেই সংখ্যা এখনও গোপন রাখা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-১৬ ফাইটার জেটের বিকল্প হিসেবে এই জে-১০সি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যক্ষমতায় সমান দক্ষতা প্রদর্শন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে তাদের বিমানবাহিনী আধুনিকায়নে নির্দিষ্ট কোনো ব্লকের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে। তাদের বহরে মার্কিন, ফরাসি ও তুর্কি যুদ্ধবিমান রয়েছে, এবং এবার নতুন করে যুক্ত হচ্ছে চীনের ৪.৫ প্রজন্মের শক্তিশালী ফাইটার জেট।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াতেও চীনের ফাইটার জেটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশও তাদের বিমানবাহিনীকে আধুনিক করতে চীনের সাথে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে, বিশ্ব সামরিক বাজারে চীনের তৈরি সমরাস্ত্র মার্কিন ও পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে, যা ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন