প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপত্রের মান এবং বৃষ্টিজনিত অসুবিধার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। সকাল থেকে নগরীর টাউন হল মোড়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যেমন 'শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না', 'শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই'। অবরোধের কারণে ঐ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলো আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ সরকারি মহাবিদ্যালয়, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ আরও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন, যে কারণে পরীক্ষা চালানোর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে তারা।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলেন আমরা শিক্ষার্থীরা ফার্মের মুরগী এবং বিগত সময়ে পরিক্ষা খারাপ হওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বুক সমান পানি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এক হাতে ছাতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, কেন আমাদের এত কষ্ট সহ্য করে পরীক্ষা দিতে হবে, যখন শিক্ষামন্ত্রী নিজে তো এসি রুমে বসে আরাম করছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা কষ্ট করছে আর তিনি কি করছেন সাইন্স এবং কমার্সের পরীক্ষার্থীদের একদিন মাত্র বন্ধ করে? এর মধ্যে দেশের আবহাওয়া এত খারাপ, তার কি এসব চোখে পড়ে না?
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তারা এতদিন বোর্ডের প্রশ্ন পড়ে এসেছেন কিন্তু সে অনুযায়ী কোনো প্রশ্নই হয়নি। প্রস্তুতি তাদের বেশ ভাল ছিল কিন্তু কেউ পরীক্ষায় ভাল দিতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে আসেননি, বরং শুধুমাত্র পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে এসেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাদের যৌক্তিক দাবী ছিল যে পরীক্ষা স্থগিত রাখেন অথবা তারিখ পিছিয়ে নেন। কিন্তু তিনি তাদের দাবী তো মেনে নেননি, উল্টো শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেছেন যে তারা নাকি ফার্মের মুরগী। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কষ্ট কি বুঝবেন, তার মেয়ে তো আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বিদেশে পড়াশোনা করেন। এখন প্রশ্ন হল, তার মেয়েকে ভাল রেখে কেন আমাদের বন্যার পানিতে কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে হবে? বর্তমানে তাদের দাবী একটাই, এই শিক্ষা মন্ত্রী যেন পদত্যাগ করে। দেশের পরিস্থিতি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন