প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেষারেষি থামেনি সংসার বিচ্ছেদের পরও। সাবেক স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। কুলিয়ারচর থানা পুলিশের কাছে এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রবাসী সাবেক স্বামীর তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলো, রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগম (৩২)। তারা মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেনের বোন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে জামাল হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ভুক্তভোগী নারী। দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে গত ১২ মে।
অভিযোগ রয়েছে, সংসার চলাকালীন সুকৌশলে স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও স্বামী জামাল নিজের মোবাইলে ধারণ করেন। বিচ্ছেদের পর জামাল এবং তার পরিবারের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেসব ছবি পাঠিয়ে ভুক্তভোগী নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ছবিগুলো ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন যদি টাকা না দেওয়া হয়।
ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে ভুক্তভোগী নারী বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ১৯ জুলাই তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে সাবেক স্বামী জামাল হোসেন এবং তার সহযোগী চারজনকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়া। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ আগস্ট রোববার সকালে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার পিঠাপই গ্রাম থেকে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় এজাহারভুক্ত তিন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
"মামলার প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও দেশের আইন অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর চেষ্টা চলছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করে নারীদের হেনস্তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, প্রবাসী জামালকে দ্রুত দেশে ফেরত এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তা অপরাধীদের জন্য কড়া বার্তা হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন