প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর হয়ে পড়া রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, যে ভাবে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে, সে ভাবেই সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে মিলে যায়।
বিএনপির রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, বিএনপির রাজনীতি সবসময় জনবান্ধব। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির মধ্যে অতি সামান্য অমিল রয়েছে।
তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের ফলে বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতে এই ভঙ্গুর রাষ্ট্রটি এখন পুনর্গঠনের জন্য যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এই পুনর্গঠনে এসডিজির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করেছে, যা জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে সমন্বিত। ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সুসংহত করতে ‘থ্রি-আর’ বা ‘রিকভারি, রিহ্যাবিলিটেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
গণমাধ্যমে তিনি জানান, সরকার গঠনের পরদিন থেকেই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলো চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড চালু করা হয়েছে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার সুচিন্তিত পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। গ্রাম তিনটি হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু-এমপ্লয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এই মডেল সম্প্রসারণ করা হবে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হয়ে উঠবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন