প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শনিবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে শ্যালিকা সিনথিয়ার মোবাইল ফোনে মেহেদী হাসান মারুফ একটি ম্যাসেজ পাঠায়, "মাকে (শাশুড়ি) নিয়ে বাসায় আসো, আমি চলে যাচ্ছি।" ম্যাসেজটি পাঠানোর পূর্বে পুলিশ গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের তালটিয়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মেহেদীর স্ত্রী স্নিগ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্ত্রীর লাশ উদ্ধার হলেও রাত পর্যন্ত মেহেদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মারুফের বয়স ২৪ বছর এবং তিনি পূবাইলের খিলগাঁও এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। নিহত আফসানা আক্তার স্নিগ্ধার বয়স ২০ বছর এবং তিনি পূবাইলের সাতানীপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আফসার উদ্দিনের মেয়ে।
সিনথিয়া, স্নিগ্ধার ছোট বোন, জানান, মাত্র দেড় মাস আগে তার বোন ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংসার জীবন শুরু করেছিলেন। ৬ মাস আগে সৌদি প্রবাসী মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর আগে সৌদি চলে যায় মেহেদী। সিনথিয়া বলেন, "দুলাভাই মেহেদীকে অসম্ভব ভালোবাসতেন তার বোন।" তিনি মেহেদীর ফাঁসি দাবি করেছেন।
বাবা আফসার উদ্দিন জানান, স্নিগ্ধা তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার বড়। কলেজে যাওয়ার পথে মেহেদীর সঙ্গে তার মেয়ের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু মেহেদী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তারা তাকে অপছন্দ করতেন। দুই বছর আগে সৌদি চলে যাওয়ার পর তার মেয়ে ফোনে মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, যা তার অজানা ছিল। ৬ মাস আগে গোপনে মোবাইল ফোনে মেহেদীকে বিয়ে করে। দেড় মাস আগে মেহেদী দেশে এসে কাজী অফিসে কাবিননামা করে। কিন্তু মেহেদীর বাবা-মা বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্নিগ্ধাকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে সংসার শুরু করে।
তিনি আরো জানান, তার মেয়ে মাকে প্রায়ই ফোন করে বলত যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মেহেদী তার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন ভাড়া বাসা থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে সিনথিয়ার মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানোর পরও বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা মেহেদীকে জিনিসপত্র ও ব্যাগ গুছিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে ম্যাসেজটি পাঠিয়েছে। সারাদিন অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তার মেয়েকে হত্যা করে মেহেদী বিদেশে পালিয়ে গেছে।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সকালে বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের খাটের ওপর স্নিগ্ধার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী স্নিগ্ধাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে স্বামী মারুফ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন