প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে তাসের আসরে টাকা নিয়ে বসার ছবি প্রকাশ, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে চেয়ারম্যান ইকবালকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে তাস খেলতে দেখা যায়। ছবিতে টাকার উপস্থিতিও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিটি কোথায়, কখন এবং কী প্রেক্ষাপটে তোলা হয়েছে—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য? ছবিটি যদি সত্যিই জুয়ার আসরের হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে খাল খনন কর্মসূচির কাজ বাস্তবায়নে গড়িমসি, শ্রমিক নিয়োগে বিলম্ব এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ফুটেজ ও কল রেকর্ড রয়েছে—এমন দাবিও করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বরাদ্দের অর্থ সংসদ সদস্য রোকন উদ্দীন বাবুলের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও অর্থ ফেরতের প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি টি/আর (সাধারণ) কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও চেয়ারম্যান ইকবালের বিরুদ্ধে উঠেছে। পাশাপাশি তাকে ঘিরে জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে থাকা নথি, ভিডিও, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
চেয়ারম্যান ইকবাল নিজেকে বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত হবে কবে—এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন