প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চরম নাটকীয়তা, অনবদ্য ফুটবল এবং শেষ মুহূর্তের এক বুকভরা হাহাকার নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ফারাওদের দেশ মিসর। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একপর্যায়ে তারা দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে গেল। রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তারা ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তবে হার নিয়ে বেদনার পাশাপাশি তারা এখন গর্বিত, কারণ তাদের ফুটবলারদের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্সের গৌরব গোটা মিসরে রাজত্ব করছে।
আমেরিকার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুটি ছিল মিসরীয়দের জন্য রূপকথার মতো। ম্যাচের প্রথমার্ধে ইয়াসির ইব্রাহিম এবং দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর অসাধারণ গোলে তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে হাঁটছিল। এমনকি প্রথমার্ধে খোদ লিওনেল মেসির পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিয়ে মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন। কায়রো, গিজা কিংবা আলেকজান্দ্রিয়ার ক্যাফে ও রাস্তায় জড়ো হওয়া লাখো মিসরীয় ভক্ত তখন কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল দিয়ে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের গল্প শুরু হয়। এর মাত্র চার মিনিট পর জাদুকরী ছন্দে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। আর খেলা শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোলটি স্তব্ধ করে দেয় পুরো মিসরকে।
এই নাটকীয় পরাজয়ের পর মিসরীয় সমর্থকদের মধ্যে কান্নার পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের অভিযোগ, ম্যাচের একপর্যায়ে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি সেটি এড়িয়ে যান, যা পরে আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়। অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ফিফা হয়তো চায়নি মেসি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিক, আর তাই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বলি হতে হয়েছে মিসরকে। তবে এত বড় ধাক্কার পরেও কোচ হোসাম হাসানের ওপর সমর্থকদের খুব খুশি।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা এই কিংবদন্তি কোচ যেভাবে দলটিকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন, তা দেশটির সোনালি প্রজন্মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। একই সাথে টুর্নামেন্ট চলাকালীন গাজার মানুষের প্রতি কোচের সংহতি প্রকাশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরা আলাদাভাবে সকলের মন কেড়েছে। বিদায়ের অশ্রু আর রেফারির প্রতি ক্ষোভ সামলে নিয়ে এখন পুরো মিসর এক বাক্যে স্বীকার করছে, ম্যাচ হারলেও বিশ্বমঞ্চে তাদের ছেলেরা বীরের মতো লড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন