প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকার প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয়, ব্যাপক ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ সত্ত্বেও, দেশের মুসলিমদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভোটাররা ইলিনয়, মিশিগান ও ওয়াশিংটন ডিসিতে এল-সায়েদকে সমর্থন করেছেন মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির কারণে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এল-সায়েদ আমেরিকায় ধর্মীয় চরমপন্থা বিষয়ক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানান, তিনি রক্ষণশীল খ্রিস্টান আইনপ্রণেতাদের সেই সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করেন, যার লক্ষ্য হলো গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজনকে ভেঙে ফেলা। দুই সপ্তাহ আগে এক জনসভায় এক তরুণ তাঁকে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মকা-কে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। এল-সায়েদ তা করেন।
এরপর নিজেকে খ্রিষ্টান পরিচয় দেওয়া ওই তরুণকে এল সায়েদ প্রশ্ন করেন, দেশের আইন অনুযায়ী একই ভাবে খ্রিস্টান ধর্মীয় মতবাদ অন্তর্ভুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন কিনা? রক্ষণশীল রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলির সাবেক কর্মী ওই তরুণ তাতে অস্বীকৃতি জানান। জবাবে এল-সায়েদ বলেন, “আমার নয়, বরং আপনারই সংবিধান সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।”
‘ইউনিটি অ্যান্ড জাস্টিস ফান্ড’-এর বাসিম এলকাররা জানান, মুসলিম বিদ্ধেষী এসব আক্রমণ ভোটারদের সংগঠিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাদের সংগঠন ডেট্রয়েটের মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূতদের এলাকায় ১ লাখ ৩৫ হাজার দরজায় কড়া নেড়ে প্রচার চালিয়েছিল। এলকাররা বলেন, “এসব আক্রমণ আমাদের কমিউনিটিকে এমন ভাবে সংগঠিত করতে সাহায্য করেছে, যা আগে কখনো হয়নি।”
তার এই নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনাটি ঘটে নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়ার পরপরই। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্স এল-সায়েদের মায়ের সঙ্গে আল-কায়েদার যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তোলেন; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে “নিষ্ঠুর, সহিংস জিহাদি” বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি খ্রিস্টান ও বড়দিনের জন্য হুমকি।
বর্তমানে ইসলাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ১১ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সময়ের চেয়েও বেশি নেতিবাচক ও বিভক্ত। টেক্সাসের রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট এবং কেন প্যাক্সটন, যারা উভয়ই মঙ্গলবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদন্ত চালিয়েছিলেন, ইসলামি আচার-অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ছিলেন এবং স্কুলগুলোতে বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করেছিলেন।
এল-সায়েদ একসময় ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থানে কিছুটা নমনীয় হন। তার এই সমালোচনা মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও ইহুদি ভোটারদের তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবে, ইলিনয় স্কুল বোর্ডের সদস্য ২৮ বছর বয়সী বুশরা আমিওয়ালা প্রজনন অধিকার এবং স্কুল ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে সায়েদের মূল বার্তা ছিল: “রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করা, মানুষের পকেটে অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।”
পিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ হলো মুসলিম, এবং তারা একটি ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনশীল ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠছে। ইসরায়েল বিষয়ে বাইডেনের নীতির কারণে আরব আমেরিকানদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে ট্রাম্পের পক্ষে নিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে।
ভোটাররা এবার এর পাশাপাশি মুসলিমবিদ্বেষ, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতার মতো বিষয়গুলোকেও উল্লেখ করেছেন। মুসলিম প্রার্থী অ্যাডাম হামাউই এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে আসন জিতেছেন। ৬৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আমেরিকান ওয়াফিক ফাউর বলেন, “ইসলাম আমাদের শেখায় নিজের প্রতি যেভাবে তাকাই, প্রতিবেশীর প্রতিও সেভাবেই তাকাতে এবং অন্যদের সাহায্য করতে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন