প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের তদন্তকে ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বারাক ওবামা উল্লেখ করেন, সরকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কঠোর সমালোচককে ভয় দেখানোর এবং দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ওবামা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আইন মেনে চলা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর ফেডারেল সরকারের পুরো শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার সাহস দেখিয়েছেন।’
সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক দলের এই আইনপ্রণেতার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে সাম্প্রতিক তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল ‘২০ বছর আগের এমন কোনো কাল্পনিক অপরাধের প্রমাণ খোঁজা, যা দিয়ে তাদের মামলাটিকে জোরালো করা যায়।’
সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, এই তল্লাশিটি অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির একটি তদন্তের অংশ ছিল। এতে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল, ২০০০ সালে ইলহান ওমর যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান, তখন তার বাবা তার বয়স নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না।
ইলহান ওমর এই তদন্তের ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসার পর, ২০০০ সালে তিনি আইনত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন।
ওবামা তার পোস্টে আরো বলেন, ‘কোনো প্রেসিডেন্ট বা কোনো প্রশাসন যে কাউকে ভয় দেখানোর জন্য এমন প্রকাশ্য পদক্ষেপ নিতে পারে—এটি সব আমেরিকানের জন্যই ক্ষোভের বিষয় হওয়া উচিত; কংগ্রেস সদস্য ওমরের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে কারও ব্যক্তিগত মতামত যা-ই হোক না কেন। কারণ, যদি এটিই নতুন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তবে মনে করার কোনো কারণ নেই যে এটি কেবল ওমরের ক্ষেত্রেই থেমে থাকবে অথবা ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলের প্রেসিডেন্টও একই কাজ করবেন না।’
যদিও সরকার এখন পর্যন্ত ওমরের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি, তবে ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, তিনি চান ওমরকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো হোক।
ওমরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং বিচার বিভাগও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। ওমর গত সপ্তাহের এই তল্লাশির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা জব্দ করা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই তল্লাশির সঙ্গে ‘আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমার মতে তিনি একজন অত্যন্ত খারাপ মানুষ। তবে এটি পুরোপুরি বিচার বিভাগের বিষয়। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
ওবামার পাশাপাশি আরও অনেক বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেতাও ওমরের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতারা এই তল্লাশিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন