প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বনভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি তিস্তাপাড়ের।
ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটেছে।
বুধবার, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এই অবস্থায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।
নদী তীরবর্তী আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, সোমবার হঠাৎ করে পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বুধবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যাওয়া শুরু করেছে। তবে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, এবং মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ার কারণে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।
তিনি আরো জানান, আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সেটি সম্ভব হলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।
বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল এবং নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে গেলে নদীভাঙন শুরু হয়ে বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, প্রতি বছর ভারত থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় তীব্র নদী ভাঙন। আমরা কোন ত্রাণ চাই না, এর স্থায়ী সমাধান চাই!
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উজানের ঢল কিছুটা কম থাকায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন