প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক স্ত্রী ও অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির বিরুদ্ধে রাজা চৌধুরী নতুন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে, তিনি তাদের অতীত বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন এবং বলিউড অভিনেত্রী মেয়ে পলক তিওয়ারির সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
রাজা অভিযোগ তুলেছেন যে বিয়ের সময় তাকে ‘বিনা বেতনের গৃহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, তিনি বলেছেন যে মানসিকভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মেয়ে পলককেও ব্লক করে রেখেছেন।
একটি সাক্ষাৎকারে রাজা বলেছেন, তাদের দাম্পত্যজীবনের শুরুর দিকে উপার্জন মূলত শ্বেতার ওপর ছিল, এবং ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা তার দায়িত্বে ছিল। রাজার মতে, শ্বেতা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন এবং তিনি একজন সাধারণ ম্যানেজারের মতো কাজ করতেন, যার কোনো মূল্যায়ন ছিল না। বিচ্ছেদের জন্য শ্বেতার মায়ের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন রাজা। তাঁর দাবি, শ্বেতার মা-ই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছেন এবং শ্বেতাকে বোঝাতেন যে রাজার জীবনে কোনো প্রয়োজন নেই।
বিচ্ছেদের পর রাজা জানান, জীবন কতটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগেছেন এবং মেয়েকে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণার কারণে অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। পরে তাকে রিহ্যাবে চিকিৎসা নিতে হতে হয়। পলকের আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাকে প্রতিপালন করেছিলেন, কিন্তু গত ১৮ বছরে তাদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনবার কথাও হয়েছে। পুরোনো স্মৃতির কষ্ট এড়াতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েকে ব্লক করে রেখেছেন, যাতে পলকের কোনো ছবি বা ভিডিও তার সামনে না আসে।
পলক তিয়াওয়ারির ব্যক্তিগত জীবন এবং ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজা উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পলকের জীবনে তিনি এখন কেবল একজন ‘বায়োলজিক্যাল ফাদার’ বা জন্মদাতা বাবা। তাই তাই পলকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই।
তবে এত দূরত্ব এবং বিবাদের পরেও রাজা চৌধুরী মেয়ের প্রতি তার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি। তিনি জানান, পলক যদি কখনো তার প্রয়োজন বোধ করেন, তবে তিনি দ্বিধা না করে পাশে দাঁড়াবেন। গভীর রাতেও যদি পলক বিপদে পড়ে তাকে ফোন করে, তবে তিনি সব কিছু ছেড়ে মেয়ের পাশে উপস্থিত হবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে শ্বেতা তিওয়ারি ও রাজা চৌধুরীর বিয়ে হয় এবং ২০০৭ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। পরে ২০১২ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ২০২৩ সালে সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে পলক তিওয়ারি রুপালি পর্দায় পা রাখেন এবং পরবর্তীতে ‘রোমিও এস৩’, ‘দ্য ভূতনি’ ছবিগুলোতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি, তাকে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘লুকখে’ নামক জনপ্রিয় মিউজিক্যাল থ্রিলার ওয়েব সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন