০৩:৩১ পি.এম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে টানা পাঁচ দিন ধরে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে জরুরি রোগী, প্রবাসী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পুরো দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্দ্বীপ চ্যানেলের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সীমিত পরিসরে স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও, আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার (৫ জুলাই) সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথম দিন থাকলেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বহু চাকুরিজীবী যথাসময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের
নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে চাওয়া রোগীরা। এ ছাড়া, প্রবাসী যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তাদের ফ্লাইট মিস হওয়া, ছুটি ও ভিসার মেয়াদ নিয়ে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কুমিরা ও গুপ্তছড়া—উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন।
দীর্ঘ ৫ দিন ধরে ঘাটে আটকে থাকায় অনেক গাড়ির কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে, ফেরিঘাটে ভালো কোনো রেস্তোরাঁ, ওয়াশরুম কিংবা গোসলের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আটকে পড়া দূর-দূরান্তের গাড়িচালক ও শ্রমিকরা। তারা জানান, এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে গিয়ে তারা হাঁপিয়ে উঠেছেন।
আরও পড়ুন: মধুপুরে টনসিল অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে এবং কখন নৌযান চলাচল শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না।
ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপে যাতায়াতের এই অনিশ্চয়তা কাটছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন