প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে শুরু হচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এতে অংশ নিচ্ছেন না, কারণ ওয়ারশর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে।
রাশিয়ার হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইউক্রেনের কয়েক শত কোটি ডলার প্রয়োজন। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমর্থন জোরদারের চেষ্টা করছে কিয়েভ।
পোল্যান্ডের গদানস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর দিয়েছে।
তবে সম্মেলনটি নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোলিশদের হত্যাযজ্ঞে জড়িত একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নামকরণের কারণে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
গদানস্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কস্তাওও উপস্থিত থাকবেন।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ী ও দেশগুলোকে উৎসাহিত করা সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
গত কয়েক বছরে জেলেনস্কির নেতৃত্বে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও এবার দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভরদেঙ্কো।
ইউক্রেন, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেন পুনর্গঠনে ৫৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এর ফলে ইউক্রেন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
যদিও সিভরিদেঙ্কো বলেছেন, তার দেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
-‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’-
এবার ইউক্রেনে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হবে।
ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদন করেছে, যার অধিকাংশই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত।
কিন্তু কিয়েভের সেন্টার ফর ইকোনমিক স্ট্র্যাটেজির পরিচালক গ্লিব ভিশলিনস্কি বলেন, ‘পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ছাড়া ইউক্রেনের পক্ষে দেশ রক্ষা করা অসম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের যারা কর দেন এবং সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করেন, তাদের জন্য আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় বিপুল ব্যয়ের মাধ্যমে দেশটি টিকে থাকতে বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর শীল।
জেলেনস্কির সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে পোল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির সঙ্গে বিরোধ। নাভরোৎস্কি ইউক্রেনীয় নেতার দেয়া একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহার করেছেন।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে মতবিরোধে থাকা নাভরোকি, ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী (ইউপিএ)'র নামকরণের কারণে জেলেনস্কির পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হন।
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ভলিনিয়া অঞ্চলে ইউপিএ কয়েক হাজার পোলিশ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এই অঞ্চলটি পোল্যান্ডের অংশ ছিল।
তবে ইউক্রেনের কিছু মানুষ ইউপিএকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, কারণ তাদের মতে এই সংগঠনটি ইউক্রেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাৎসি ও সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
ইউপিএর মর্যাদা এবং সংগঠনটির নেতাদের স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দুই মিত্র ও প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ওপর ছায়া ফেলেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি তিখি বুধবার বলেন, কিয়েভ আশা করছে এই বিরোধ সম্মেলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তিনি বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ এড়িয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বাস্তবধর্মী ও কার্যকর সিদ্ধান্তের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে কিয়েভ।’
জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট ও ডানপন্থী বিরোধীদের থেকে নিজেকে দূরে রেখে ইউরোপপন্থী প্রেসিডেন্ট টাস্ক বলেন, তিনি আশা করছেন সম্মেলনটি ‘এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বা আবেগপূর্ণ উত্তেজনা কমানোর একটি উপায়’ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন