প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সেই ঘাঁটিতে উপস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির একটি বিবৃতিতে উঠে এসেছে যে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সেখানকার যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার।
আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও কঠোর হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যদি সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী আবারও আগ্রাসন চালায়, তবে ওই অঞ্চলে থাকা অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও আমাদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে না।’
এবারের ঘটনা থেকে কিছুক্ষণ আগে, জর্ডন জানিয়েছিল যে, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে এবং এর ফলে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন লক্ষ্যে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের কাছে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুতে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় সেতুর আশপাশের রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের ‘শাস্তিমূলক জবাবের’ প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। এই হামলাটি পরিচালিত হয়েছে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক দাফন অনুষ্ঠানের উপড়ে আঘাত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উপলক্ষে সেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে।
আইআরজিসি আবারও সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবার ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের জবাব আরও কঠোর এবং ব্যাপক হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন