প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে নজিরবিহীন মতবিরোধের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। এর মধ্যে একদিনে তারা চারবার আপত্তি জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপত্তিগুলো মূলত নতুন ভোটার নিবন্ধন, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত আপিল এবং পুরো ভোটার তালিকার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে। দুই কমিশনার অভিযোগ করেছেন যে, তাদের অবগত না করেই কমিশনের নামে কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এসব আপত্তির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও প্রদান করা হয়েছিল।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমকে ঘিরেই এসব মতবিরোধের বড় অংশ সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পরে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে।
ফর্ম-৬ পরিবর্তন নিয়েও আপত্তি
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬-এ চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন একটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়—আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা/দাদা-দাদি আগের এসআইআর-এর ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। কমিশনার বিবেক যোশী মে মাসেই নথিতে জানিয়েছিলেন, সরকারের বিধি সংশোধন ছাড়া এভাবে ফর্ম পরিবর্তন করা যায় না। সান্ধুও তাঁর সঙ্গে একমত হন। পরে পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সান্ধু ১৩ আগস্ট একে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ভোটার তালিকার সফটওয়্যার নিয়েও প্রশ্ন
দুই কমিশনার ভোটার তালিকার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে এবং ব্যবস্থাপনা দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। তারা এ বিষয়ে অডিটের দাবিও তুলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়ার একটি ঘটনায় ৯৭ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দিলেও সফটওয়্যারে আগের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় নামগুলো তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি
জুলাইয়ের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আইটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নতুন নির্দেশ জারির পর সান্ধু ও যোশী পৃথকভাবে ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দেন। তাদের অভিযোগ ছিল, কাজের বণ্টনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভোটার তালিকার আইটি অবকাঠামোর ওপর নজরদারি কমিয়ে দিতে পারে এবং বিষয়টি তাদের না জানিয়েই করা হয়েছে। পরদিন দুই কমিশনার যৌথভাবে ওই পরিবর্তন বাতিল করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বুধবার দাবি করেছেন, কমিশনাররা বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুললেও এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনে সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনার নিয়ে গঠিত। সাম্প্রতিক প্রকাশিত নথিগুলোতে উঠে আসা মতবিরোধ তাই দেশটির ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন