ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘গুলশানের চামেলি’তে মধুমিতার সঙ্গে নতুন রসায়নে বাঁধন


‘গুলশানের চামেলি’তে মধুমিতার সঙ্গে নতুন রসায়নে বাঁধন

 

রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’। নারীপ্রধান এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।

এবার শোনা যাচ্ছে, ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকেও। খবরটি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পলায়ন ফ্লাভিও বোলসোনারোর, ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক

কালের কণ্ঠকে বাঁধন বলেন, ‘হ্যাঁ, ছবিটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আগস্টের ১ তারিখ সম্ভবত ছবিটির ঘোষণা আসবে। এখানে আমি একজন মানবধিকারকর্মী, অর্থাৎ আইনজীবীর চরিত্র করছি।’

সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক যৌনকর্মীর জীবনকে ঘিরে। কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার নিপীড়নের শিকার হন তিনি। সমাজ ও রাজনীতির নানা অন্ধকার দিককে তুলে ধরা হবে তাঁর জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার ধারা থেকে বেরিয়ে ‘গুলশানের চামেলি’তে কোনো প্রচলিত নায়ক থাকছে না। পুরো গল্প এগোবে একজন নারীকে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চরিত্রের নানা রূপ ও সংগ্রামই হবে সিনেমার মূল আকর্ষণ।

এর আগে কালের কণ্ঠকে মধুমিতা সরকার জানিয়েছেন, তিনি সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এসে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে দলে স্থান হবে না: আমান উল্লাহ আমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে দলে স্থান হবে না: আমান উল্লাহ আমান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি অথবা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে দলে রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না, এই কথা জানিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।

বুধবার বিকেলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পূর্বহাটি চেয়ারম্যানবাড়ি সড়কসংলগ্ন খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন।

আমান উল্লাহ আমান এ সময় বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার আলোকে দেশের মাদকমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশে কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অথবা ভূমি দখলের সুযোগ পাবে না।

তিনি এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলদারদের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। তিনি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভাটির সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকার এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আব্দুল আজিজ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জুয়েল, ঢাকা জেলা যুবদলের নেতা শাওন সরকারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় বিপদে পড়েছিলেন মার্টিনেজ, গ্রামবাসীর সহায়তায় মিলল রক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


বড় বিপদে পড়েছিলেন মার্টিনেজ, গ্রামবাসীর সহায়তায় মিলল রক্ষা

ফুটবল মাঠের ভেতরে অনেকবার আর্জেন্টিনা ও অ্যাস্টন ভিলাকে বিপদের সময়ে রক্ষা করেছেন এমিলিয়ানো মাটিনেজ। তবে এবার মাঠের বাইরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পড়লেন তিনি।

আর্জেন্টিনার সিয়েরা দে লস পাদ্রেসের একটি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় কাদা-পানিতে আটকে যায় মার্টিনেজের বিলাসবহুল গাড়িটি। যখন তার গাড়ি অফ-রোড ট্র্যাকে আটকে পড়ে বিপদে, ঠিক এ সময় দুই স্থানীয় বাসিন্দা ত্রাতা হয়ে সামনে আসেন।

রাস্তায় চলাচলের সময় বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষককে মাঝখানে আটকে থাকতে দেখে তারা সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের প্রচেষ্টায় গাড়িটি কাদা থেকে মুক্ত হয়।

মুক্ত হওয়ার পর মার্টিনেজ বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে উদ্ধারকারীদের উদ্দেশে বলেন, “ভালোই হলো যে আপনারা এই দিক দিয়ে যাচ্ছিলেন! তা না হলে আমাদের হয়তো এখানেই আটকে থাকতে হতো।”

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো ঘটনার দৃশ্য ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। কাতার বিশ্বকাপজয়ী এসব তারকা ফুটবলারের অতি সাধারণ আচরণ, নম্রতা ও বিপদে এগিয়ে আসা সাধারণ প্রতিবেশীদের এই সৌজন্যমূলক উদ্যোগটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


ইরানকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে অতিউন্নত ও ভয়াবহ ক্ষমতার কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) দিচ্ছে চীন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনের তৈরি এই উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রথম চালান তেহরানের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা রুখতে এবং নিজেদের আকাশসীমাকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করার জন্য চীনের কাছে এই ভয়ংকর প্রযুক্তির অস্ত্র চেয়েছে তেহরান। চুক্তির আওতায় আনুমানিক ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সহযোগিতা অনুযায়ী ইরান পেতে যাচ্ছে চীনের তৈরি আধুনিক ‘কিউডব্লিউ-১২’ এবং ‘এফএন-১৬’ মডেলের অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র।

কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ হলো ইনফ্রারেড প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত অত্যন্ত নিখুঁত ও আধুনিক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলোর নিমেষে নিচু দিয়ে উড়ে আসা আধুনিক যুদ্ধবিমান, সমরাস্ত্রবাহী হেলিকাপ্টার এবং ছোট আকারের আত্মঘাতী ড্রোন ধ্বংস করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অত্যন্ত হালকা হওয়ায় এই বিধ্বংসী অস্ত্রগুলো দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা যায় এবং ক্ষুদ্র সেনাদল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে মার্কিন বা শত্রুভাবাপন্ন বিমান বাহিনীর জন্য বোমারু বিমান চালিয়ে বা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের স্থায়ী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অবকাঠামোগুলোর যেসব ক্ষতি হয়েছিল, চীনা এই ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেলে তেহরান অতি দ্রুত সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। ফলে মার্কিন বাহিনীর জন্য ইরানের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে, এমনটাই মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

তবে চীনের পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়টি এবং সামরিক সরবরাহের ব্যাপারে অস্বীকার করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানকে কোনো ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহের খবর ভিত্তিহীন। তারা দাবি করেছেন যে, চীন সংঘাত নয় বরং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথম ধাপে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে করে এবং পরবর্তীতে গোপন স্থলপথ ব্যবহার করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীনা অস্ত্রের এই অনুপ্রবেশ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে, এ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে জামায়াতের নৈতিক অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


নারী ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে জামায়াতের নৈতিক অবস্থান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদেরকে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি নৈতিক বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে। দলটি বলছে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে, জবাবদিহি বাড়বে এবং রাজনীতিতে নৈতিকতার মানও উন্নত হবে। কিন্তু এখন সেই দাবির প্রথম বড় পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর পরে তার বিরুদ্ধে নিজের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে। এই সকল ঘটনায় জামায়াতকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। জনসমালোচনা এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর দলটি ওই সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করে। তবে এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নও সামনে এনেছে। যদি কোনো দল নিজেদের অন্যদের চেয়ে বেশি নৈতিক দাবি করে, তবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাও কি এমন হওয়া উচিত নয় যে, শুরুতেই এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো যাবে? কারণ, ক্ষমতা মানুষের চরিত্র তৈরি করে না, বরং মানুষের আসল চরিত্র প্রকাশ করে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নারীদের বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে বলেছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কোনো নারী তাদের দলের নেতৃত্ব দিতে পারে না। এছাড়া, সরাসরি নির্বাচিত সংসদীয় আসনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থীও দেয়নি। এসব অবস্থান থেকেই বোঝা যায় রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে দলটির দৃষ্টিভঙ্গি কী। এই বিতর্ক আরও বেড়ে যায়, যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর উঠে আসে যে, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মাতৃত্বকালীন ছুটির পর নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর এবং মায়েদের ঘরে থাকতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেছেন। যদিও পরে তারা উল্লেখ করেন, তাদের ওই মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট। জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা বারবার এমন একটি সমাজব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে নারীর মূল ভূমিকা ঘর-সংসার ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। জনজীবন এবং নেতৃত্বে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পায় না। এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং নারী ও তরুণদের আকাক্ষার সঙ্গে অনেকটাই অসঙ্গতিপূর্ণ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা কোনো গৌণ ভূমিকা পালন করে না। বরং তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তৈরি পোশাক শিল্প, যা দেশের রপ্তানি খাতকে পাল্টে দিয়েছে, সেখানে নারীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, উদ্যোক্তা খাত এবং সরকারি প্রশাসনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিদিন তাদের কাজ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নারীদের সুযোগ সীমিত করা পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার উপায় নয়। বরং এতে বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইতিহাস এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আদর্শের নামে যেসব সমাজ পরিকল্পিতভাবে নারীদের অধিকার সীমিত করেছে, তারা বেশিরভাগই উন্নতি করতে সক্ষম হয়নি। তালেবান শাসিত আফগানিস্তান এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সেখানে নারীদের শিক্ষা, চাকরি এবং জনজীবন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র বিশ্বজুড়ে সমালোচনা নয়, বরং দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দারিদ্র্য বেড়েছে। বাংলাদেশ যদিও সেই অবস্থায় নেই, তবে ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট। যখন কোনো রাজনৈতিক শক্তি নারীদের সুযোগ ও স্বাধীনতা বাড়ানোর বদলে তা সীমিত করতে চায়, তখন গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন-দু’টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমান তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে রাজনীতিতে পরিবর্তন আনা তরুণরা প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত, বিশ্বমানের খবর সম্পর্কে সচেতন এবং রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নিয়ে খুবই সন্দিহান। তারা শুধু নৈতিকতার দাবি শুনতে চান না। তারা চান স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান, সবার জন্য সমান সুযোগ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব। কোন রাজনৈতিক দল কি বলছে, তার চেয়ে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়, সেই দল বাস্তবে কি করছে এবং কী ধরনের নীতি অনুসরণ করছে।

এই রাজনীতি, যা দেশের অর্ধেক জনগণকে নেতৃত্বের জন্য অযোগ্য মনে করে, সেই রাজনীতি আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, এই প্রজন্ম সমান অধিকারকে দয়া বা বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখে না। তারা এটিকে গণতন্ত্রের একটি মৌলিক নীতি বলে মনে করে। এই হিসাবে জামায়াতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আগত।

ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার বা নিজেদের অন্যদের চেয়ে বেশি নৈতিক হিসেবে দাবি করলেই নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না। এর প্রমাণ কাজের মাধ্যমে দিতে হয়। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান, সবার জন্য একইভাবে জবাবদিহি এবং প্রতিটি নাগরিকের প্রতি সমান সম্মান।

জামায়াত যদি সত্যিই নিজেদের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা প্রমাণ করতে চায়, তবে তারা শুধু কোনো কেলেঙ্কারির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করলেই হবে না। দলটিকে নিজেদের রাজনীতির ভেতরের বড় বড় অসঙ্গতিগুলোরও মুখোমুখি হতে হবে। যেমন, একদিকে নৈতিকতার কথা বলা, অন্যদিকে অসদাচরণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া। আবার একদিকে ন্যায়ের কথা বলা, অন্যদিকে নেতৃত্বে নারীদের সমান সুযোগ না দেওয়া।

বাংলাদেশের মানুষ নৈতিক রাজনীতির অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা প্রতিশ্রুতি নয়, তার বাস্তব প্রমাণ দেখতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%