প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন। যদিও তিনি প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তবে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। বুধবার (১০ আগস্ট) ট্রাম্প এ বিষয়ে ঘোষণা দেন।
লিভিট এই পদে বসার সময় ২৮ বছর বয়সী ছিলেন, এবং তিনি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। ট্রাম্পের প্রতি তার দৃঢ় আনুগত্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি প্রচারের আলোতে ছিলেন। তিনি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প জানান যে, লিভিট তার পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে দুই সন্তানের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর জন্য দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদ ছাড়ার পর তিনি ট্রাম্পের ‘আউটসাইড অ্যাডভাইজার’ হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
গত মে মাসে লিভিট তার দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানার জন্মের ঘোষণা দেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কিছু সপ্তাহের মধ্যে তার দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত আসে। লিভিট বলেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেক পুরানো। ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার পর লিভিট হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংকে পুনরায় সক্রিয় করেন। তবে তার সময়ে হোয়াইট হাউস ও সাংবাদিকদের সম্পর্কের ধরনে বড় একটি পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোন সাংবাদিকরা পাবেন, তা হোয়াইট হাউস নিজেই নির্ধারণ করবে। একই সময়ে ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী গণমাধ্যমগুলোকেও সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, ফলে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠা লিভিটের পরিবার সেখানে একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পত্রিকায় চিঠি লিখে তিনি আলোচনায় আসেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনে নির্বাচন করেন লিভিট। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। প্রচারে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান ছিল তার অন্যতম প্রধান বিষয়।
এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে টেলিভিশন বিতর্ক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন।
দায়িত্ব ছাড়ার পরেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিভিট। তিনি বলেছেন, তার রাজনৈতিক লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তবে সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন