প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের চেন্নাইয়ে ২৭ বছর বয়সী অর্থবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ভি হরিশ আত্মহত্যা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি ছিল। হরিশের বাবার অভিযোগ, একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অনলাইনে তার ছেলেকে হয়রানি করতেন।
এনডিটিভি জানায়, হরিশ ‘ফাইন্যান্স উইথ হরিশ’ নামে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করতেন। চেন্নাইয়ে ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হরিশের বাবার দাবি, জেমুরিয়া ইনকরপোরেশনের সিইও জেসন স্যামুয়েল তার ছেলেকে অনলাইনে হয়রানি করতেন। স্যামুয়েলের অভিযোগের পর মেটা হরিশের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। এরপর তিনি নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন।
হরিশের বাবা বলেন, এসব ঘটনার ফলে তার ছেলে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। বাবার দাবি, এই চাপের কারণেই হরিশ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে স্যামুয়েল হরিশকে অনলাইনে হয়রানি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হরিশের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরিশের দেওয়া তথ্যের ভুলগুলো তিনি শুধুমাত্র তুলে ধরেছিলেন।
স্যামুয়েলের দাবি, হরিশ ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (সেবি) নিবন্ধিত বিনিয়োগ পরামর্শক ছিলেন না। তিনি আরো বলেন, হরিশ সম্প্রতি ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড অ্যাসোসিয়েশন (এএমএফআই) থেকে নিবন্ধন নম্বর পেয়েছিলেন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে স্যামুয়েল লেখেন, ‘যা ঘটেছে, তাতে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি শোকাহত, হতবাক এবং বাক্রুদ্ধ। একজন মানুষের মৃত্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি। আমি তাকে অনলাইনে হয়রানি করিনি। শুধু তার লাইসেন্স ও অনুমোদন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছি।’
তিনি আরো দাবি করেন, হরিশ তার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সেবি নিবন্ধন ছাড়াই বিনিয়োগ পরামর্শ দিতেন এবং নিজের অনুমোদন থাকার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। স্যামুয়েল বলেন, হরিশের এএমএফআই নিবন্ধন থাকার দাবি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার ভাষ্য, হরিশ সম্প্রতি নিবন্ধন নম্বর পেয়েছিলেন।
স্যামুয়েল আরো লেখেন, ‘ভিডিওতে আমি তাকে স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যথাযথ সেবি লাইসেন্স নিয়ে ফিরে এসে কাজ করতে। এমন ভয়াবহ পরিণতি ঘটবে, তা আমি কখনো চাইনি বা আশাও করিনি। তার মৃত্যুতে আমি শোকাহত।’
এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এখনও কোনো মামলা দায়ের করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন