প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে। কয়েক দশক পূর্বে এই বাহিনীতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা, কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এনওয়াইপিডি-র প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে এখন এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও, পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন বেসামরিক পদে কাজ করছেন আরও প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও তাদের এই সম্মানজনক বিস্তৃতি ঘটেছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক ২০০৪ সালে যখন এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন, তখন সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তিনি জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশি ও মুসলিম তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শামসুল হকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ৯/১১-এর হামলার পর পরিবারের সংশয়কে পেছনে ফেলে তিনি পুলিশ একাডেমিতে ভর্তির সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তার একাগ্রতার ফলস্বরূপ, তিনি চলতি বছরের শুরুতে অবসরে যাওয়ার আগে নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েন।
নতুন অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশে প্রবেশের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো বাহিনীর বেসামরিক পদগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্কুল নিরাপত্তা কিংবা জরুরি সেবা নম্বরের অপারেটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান অভিবাসীরা।
পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই পূর্ব-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা সহজেই পুলিশ একাডেমিতে আবেদন করে ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পান। শামসুল হকের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এই পথ অনুসরণ করেই মূল বাহিনীতে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা আগে থেকেই পুলিশের কর্মপরিবেশ ও দায়িত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, যা তাদের পেশাগত জীবনে দারুণ সহায়ক হয়।
কেবল সংখ্যাতেই নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ জন গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ), ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং চারজন ইন্সপেক্টর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।
কর্মরত এসব কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নিজ কমিউনিটির তরুণ ও নতুন অভিবাসীদের এই সম্মানজনক পেশায় আসতে উৎসাহিত করছেন। উল্লেখ্য, বৈচিত্র্যময় নিউইয়র্ক পুলিশের বর্তমান ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক, ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ১২ শতাংশ এশীয়। একসময়ের সীমিত উপস্থিতি থেকে আজকের এই হাজার ছাড়ানো সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির পেশাগত সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন