প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এস আলম এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন বলেন, ‘দুদকে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; বরং সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অনুমতি ছাড়া ইয়াসীন আলী নিজ উদ্যোগে এই অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন। এই কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইয়াসীন আলীকে বরখাস্তের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জানান, ‘এ তথ্য সঠিক নয়।’ তবে, ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইয়াসীন আলীকে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ২৭ জুলাই জারি করা চিঠিতে শাখার ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এভাবে সাময়िक বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, গত সোমবার ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে এস আলম, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকে এ অভিযোগ জমা দেন। এই মামলা অনুসন্ধান করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে একটি তদন্ত হয়েছে। সেই তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ এর ঋণ সীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। ঋণের অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটেছে বলে ব্যাংক অভিযোগ করেছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং গঠিত পরিচালনা পর্ষদে তিনি যুক্ত হন। এ সময়েই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণ সীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন