প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জামায়াতের একাধিক নেতা মনে করছেন, রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই পোস্টটি দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’ এই দুই লাইনের পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই পোস্টটির উদ্দেশ্য এবং ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় সংবাদ জানতে চেয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা কেন এমন পোস্ট দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ ওয়ালিউদ্দীন তানভীর সময় সংবাদকে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিশ্চয়ই কোনো একটি বিষয়কে ইঙ্গিত করেই এই রহস্যময় পোস্টটি দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘স্বৈরাচার’ এবং ‘গুপ্ত’দের এক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তার বিপরীতে মন্তব্য হিসেবেই পোস্টটি হতে পারে। এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদমর্যাদার দুই নেতা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্যের সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা তিনজনই জানান, যে দলটি অভ্যুত্থানে হাজারো সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে এবং জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের হত্যা করেছে, সেই দলের সঙ্গে জামায়াতের এক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইঙ্গিত করেছেন। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতা ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন।
জামায়াতের এই তিন নেতা আরও বলেন, দলটি কখনো কোনো অপরাধীর সঙ্গে হাত মেলায়নি। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বারবার দাবি করেছেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তাদের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে সহযোগিতা করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন দাবির বিপরীতে বিএনপির কেউ কখনো মন্তব্য করেননি বলে জানান তারা।
তাদের ধারণা, এ বিষয়টি উল্লেখ করেও জামায়াত আমির ফেসবুক পোস্টটি দিতে পারেন। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবির বিষয়ে বিএনপির নীরবতা থেকে বোঝা যায়, বিএনপি নিজেরাই পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে মিলিত হয়ে আছে।
‘স্বৈরাচার’ এবং ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন