প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাঁধের ১৬টি জলকপাট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এর ফলে স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। গতকাল রোববার সকালে এই গেটগুলো দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর পূর্বে, শনিবার রাতে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটের ওপেনিং আরো ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে, পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল রোববার সকালে গেটের ওপেনিং দুই ফুট করা হলে, স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক দুই ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায়, গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। পানির স্তরের এই বৃদ্ধি হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায়, বাঁধের ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু হয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
পানি ছাড়ার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এই অবস্থায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন