প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের হোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযান পর্যটন শিল্পের জন্য নেতিবাচক বার্তা প্রদান করছে, এমন মন্তব্য করেছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত। তবে আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় সময় ও সংশোধনের সুযোগ প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। যদি হঠাৎ করে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকে, তবে পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।
সভায় উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেছেন, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সকলের প্রতি সমান গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক। যদি বিভিন্ন বাহিনী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করা হয়, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি কোনো স্থাপনায় আইনগত ত্রুটি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং সময় প্রদান করা উচিত। এরপর যদি কেউ আইন অমান্য করে, তবে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সকলকে নিয়মের আওতায় আনা। এজন্য প্রথমে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা দরকার। শুধুমাত্র নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না; নোটিশের বিষয়বস্তু বুঝিয়ে বলা, আইনগত ত্রুটি সংশোধনের পথ নির্দেশ করা এবং বাস্তবসম্মত সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্যোক্তাদের মতে, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে। তাঁদের আবাসন এবং অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে একের পর এক ভাঙচুর ও উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকলে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে, যা পর্যটন ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, যদি কোনো স্থাপনা আইনবহির্ভূতভাবে নির্মিত হয়ে থাকে অথবা পরিবেশ ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকে, তবে তা অবশ্যই যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা, অভিযোগের যথার্থতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এতে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ন্যায়সংগত আচরণ পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। তাই অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় উদ্যোক্তারা পর্যটন শিল্পের স্বার্থ রক্ষা, আইনানুগ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের সংশোধনের সুযোগ প্রদান করে সমন্বিতভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন